বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেও ফিফা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্তে অটল জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হবেন ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস কর্মকর্তা।
রোববার ফিফার পক্ষ থেকে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে। ফিফার এক মুখপাত্র জানান, এপ্রিলে ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এবার আরও এক মেয়াদের জন্য লড়বেন তিনি। জয়ী হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নেতৃত্বে থাকবেন।
সম্প্রতি ফিফার ইভেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সঙ্গে ফিফার সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি হয়।
উয়েফা এই পরিকল্পনার বিষয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ তোলে। এমনকি ফিফার প্রতিযোগিতা, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল ইউরোপীয় সংস্থাটি। পরে বয়কটের হুমকি প্রত্যাহার করলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে তাদের অবস্থান কঠোরই রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাতিল হওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে উয়েফা। ফিফা ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের কাছ থেকে পরিকল্পনাটির নথি সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদনও করেছে তারা। নথি হাতে পেলে সুইজারল্যান্ডে আইনি অভিযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে উয়েফার।
এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর একমাত্র সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কনকাকাফ সভাপতি ও ফিফা সহ-সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ান। অন্যদিকে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
একসময় ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মন্তাগ্লিয়ান। তবে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে ঘিরে তার অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়।
তবে সমালোচনার মধ্যেও ইনফান্তিনো পুরোপুরি একা নন। ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব গত মাসে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আফ্রিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএএফ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবলও তার প্রতি সমর্থনশীল বলে জানা গেছে।
ফিফাও পাল্টা উয়েফার বিরুদ্ধে ইনফান্তিনোকে লক্ষ্য করে ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ এবং ‘ফিশিং এক্সপেডিশন’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
রাবাতে আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ফিফার ২১১ সদস্য ফেডারেশনের ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ইনফান্তিনো আরও এক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হতে পারবেন। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর।
ইনফান্তিনো জয়ী হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; যা হবে তার চতুর্থ ও শেষ মেয়াদ।
এমএমআর