হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৪ কেজি সোনার বার জব্দের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার সোয়েব কাজী সজিবকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের দাবি, সজিব আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন শুনানি শেষে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সজিবকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, সজিব দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে সোনা দেশে আনার সঙ্গে জড়িত। চোরাচালান চক্রের মূলহোতা ও অন্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য সজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তবে আসামির পক্ষে আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিমানের কেবিনে থাকা সজিব সন্দেহজনকভাবে ছোটাছুটি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার শরীরে লুকিয়ে রাখা সোনার বারগুলো কেবিনের ভেতর ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১২০টি সোনার বার পাওয়া যায়।
জব্দ করা বারগুলো পরীক্ষা করে মোট ১৩ হাজার ৯৯২ গ্রাম বা প্রায় ১৪ কেজি ২৪ ক্যারেটের সোনা পাওয়া যায়। জব্দ করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় সজিবের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্তে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্তে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।
এমডিএএ/জেএইচ