চোখের সাজে কাজল, আইলাইনার, আইশ্যাডো ও মাস্কারার ব্যবহার তো রয়েছেই। এর সঙ্গে এখন অনেকেই যোগ করছেন রঙিন কন্ট্যাক্ট লেন্স। বিশেষ করে বিয়ে, পার্টি বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে চোখের রং বদলে দিতে রঙিন লেন্স বেশ জনপ্রিয়। তবে সৌন্দর্য বাড়ানোর এই উপকরণ ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতাও চোখের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
কন্ট্যাক্ট লেন্স সরাসরি চোখের কর্নিয়ার ওপর থাকে। ফলে অপরিষ্কার হাত, ভুলভাবে সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স বা মেকআপের কণা চোখে ঢুকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রঙিন বা কসমেটিক লেন্সও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শুধু দেখতে সুন্দর লাগছে বলেই যেকোনো লেন্স ব্যবহার করা ঠিক নয়।
চোখের সৌন্দর্যে রঙিন লেন্স, তবে ব্যবহারে চাই বাড়তি সতর্কতা
মেকআপের আগে না পরে লেন্স?
কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো-মেকআপ শুরুর আগে পরিষ্কার হাতে লেন্স পরা এবং মেকআপ তোলার আগে লেন্স খুলে ফেলা। সাজ শেষ করে লেন্স পরতে গেলে চোখের আশপাশে থাকা আইশ্যাডো, আইলাইনার বা মাস্কারার কণা লেন্সে লেগে যেতে পারে।
লেন্স পরার আগে সাবান-পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে বা বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। লেন্স খোলার সময়ও একই নিয়ম মানতে হবে। চোখে লেন্স থাকা অবস্থায় চোখের ভেতরের কিনারায় কাজল বা আইলাইনার লাগানো এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে মেকআপের কণা লেন্সের নিচে আটকে চোখে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাড়তি সতর্কতা
বিয়ের অনুষ্ঠান বা পার্টিতে দীর্ঘ সময় মেকআপ, উজ্জ্বল আলো, ধোঁয়া কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকার কারণে চোখ শুষ্ক বা অস্বস্তিকর লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের মতো করে যেকোনো আইড্রপ ব্যবহার না করে কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী লুব্রিকেটিং আই ড্রপ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।
চোখে জ্বালা, অস্বস্তি বা অতিরিক্ত শুষ্কভাব শুরু হলে লেন্স খুলে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো। চোখের আরাম উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় লেন্স পরে থাকা উচিত নয়।
চোখের সাজ যতই জমকালো হোক, লেন্স ব্যবহারে পরিচ্ছন্নতাই প্রথম শর্ত
লেন্স কতক্ষণ পরবেন?
প্রতিটি কন্ট্যাক্ট লেন্সের ধরন ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহারের সময় আলাদা হতে পারে। তাই ‘সব লেন্স সাত-আট ঘণ্টা পরেই খুলতে হবে’-এমন একক নিয়ম না মেনে লেন্সের প্যাকেট, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবহারের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
লেন্স পরে কখনোই ঘুমানো উচিত নয়, যদি না বিশেষভাবে চিকিৎসকের নির্দেশে ঘুমের উপযোগী কোনো লেন্স ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় একটানা পরলে চোখে শুষ্কতা ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
লেন্স পরিষ্কার ও সংরক্ষণ
লেন্স খুলে নির্দিষ্ট কন্ট্যাক্ট লেন্স সলিউশন দিয়ে পরিষ্কার করে পরিষ্কার কনটেইনারে রাখতে হবে। পুরোনো সলিউশনের সঙ্গে নতুন সলিউশন মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। কনটেইনারও নিয়মিত পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট সময় পর পরিবর্তন করা জরুরি।
লেন্সে ফাটল, ছিঁড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক দাগ বা জমাট ময়লা দেখা গেলে সেটি ব্যবহার করবেন না। একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স বা সলিউশনও ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
ভুলভাবে কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে চোখে শুষ্কভাব, অ্যালার্জি, জ্বালা, লালচে ভাব কিংবা সংক্রমণ হতে পারে। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে কর্নিয়ায় ক্ষত বা আলসার তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। চোখে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত পানি পড়া, আলো সহ্য না হওয়া, দৃষ্টিতে পরিবর্তন বা চোখ মেলতে কষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে লেন্স খুলে ফেলতে হবে এবং দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সৌন্দর্যের জন্য কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করা যায়, কিন্তু চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে নয়। বিশেষ করে রঙিন লেন্স কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত উৎস বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। চোখ সুন্দর দেখানোর চেয়ে চোখ সুস্থ রাখা যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই মনে রাখা জরুরি।
সূত্র: আলুর, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই