দীর্ঘ ৭ বছরের রাজনৈতিক জটিলতার পর অবশেষে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন ইতালি বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং ইতালিপ্রবাসী জুলাই-গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের নেতা সোহাগ খান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় তার পাসপোর্ট ব্লক করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সোহাগ খান আবেগপ্লুত হয়ে জানান, বিগত সরকারের রাজনৈতিক ব্লকিংয়ের কারণে তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দালালের মাধ্যমে সুরাহা করতে গিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা খুইয়ে প্রতারিতও হন তিনি।
অবশেষে কোনো প্রকার অর্থ খরচ ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তিনি নতুন পাসপোর্ট পান। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রোম দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত রফিকুল হকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে ইতালিতে আসার পর থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন সোহাগ খান। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসে এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন করেন। তবে ২০২০ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিনিউ করতে গেলে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় তার পাসপোর্টটি ব্লক করে দেওয়া হয়। তৎকালীন ইতালিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার পাসপোর্ট আটকে রেখেছিলেন এবং প্রবাসীদের ভোগান্তিতে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সোহাগ খান জানান, তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের কিছু সাংবাদিকও তাকে হতাশ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। তবে পাসপোর্ট না পাওয়ার গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও স্বজন হারানোর বেদনায় দীর্ঘ ৭ বছরের এই রাজনৈতিক ব্লকিংয়ের কারণে তার ব্যক্তিজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
মানসিক দুশ্চিন্তায় দীর্ঘ ৩ বছর তিনি কোনো কাজ করতে পারেননি। এমনকি ২০২১ সালে তার বাবা মৃত্যুবরণ করলেও পাসপোর্ট না থাকার কারণে শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে বা তার জানাজায় অংশ নিতে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি।
এছাড়াও পাসপোর্ট না পাওয়ার যন্ত্রণা ও হতাশা সহ্য করতে না পেরে ইতালিতে অবস্থানরত আরও দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি আত্মহত্যা করেন বলে জানান সোহাগ খান। সেই করুণ ঘটনা স্মরণ করে আবেগপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইয়েরা যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন, তবে হয়তো আজ তারাও সমাধান পেতেন।’
আরও পড়ুন
মালয়েশিয়ায় সুখবর পেলেন অবৈধ বাংলাদেশিরা
ইতালি প্রবাসীদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই নেতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও রোমে নানা কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি রোমে প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের ভূমিকাও স্মরণ করেন তিনি। সংকট কাটিয়ে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ায় তিনি এখন দ্রুত দেশে ফিরে মরহুম বাবার কবর জিয়ারত এবং মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দেন, আইনি বা পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে। সাবেক রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের অনিয়ম ও প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের নানা ভোগান্তি নিয়ে তিনি খুব শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন বলে জানান।
এমআরএম