চুলের কাট, স্টাইল কিংবা দৈর্ঘ্য-যেভাবেই সাজানো হোক না কেন, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে লম্বা চুলের আকর্ষণ বরাবরই আলাদা। অনেকেরই স্বপ্ন থাকে ঘন, লম্বা ও সুন্দর চুলের। তবে চুল তো আর রাতারাতি লম্বা হয়ে যায় না। এর জন্য যেমন প্রয়োজন ধৈর্য, তেমনি জরুরি নিয়মিত যত্ন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
চুলের আগা ফেটে গেলে নিয়মিত ট্রিম করে নেওয়া ভালো। কারণ আগা ফাটা চুল সহজেই ভেঙে যেতে পারে, ফলে চুলের কাঙ্ক্ষিত দৈর্ঘ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একইভাবে অতিরিক্ত চুল পড়া বা ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থাকলেও চুল লম্বা হতে সময় বেশি লাগে।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বাড়াতে শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতর থেকেও পুষ্টি জোগানো জরুরি। পর্যাপ্ত পুষ্টি ও যত্নের সমন্বয়েই ধীরে ধীরে চুল হয়ে উঠতে পারে সুস্থ, শক্তিশালী, ঝলমলে ও লম্বা।
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রাশেদ মোহাম্মদ খান কী কী কারণে চুল পুষ্টিহীন হয়ে যায় এবং ঝরতে থাকে তার প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করেছেন-
হরমোনের সমস্যা থাকলে চুল পড়তে পারে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার না খেলে চুল পুষ্টি পায় না।
অতিরিক্ত হারে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করলে (ক্র্যাশ ডায়েট) চুল ঝরে।
সময়মতো ও পরিমাণমতো না ঘুমালে চুল পড়ে।
চুলে অতিরিক্ত মাত্রায় তাপ (হিট) দিলে আগা ফেটে যায় বা চুল ভেঙে পড়তে থাকে। ফলে চুল বাড়ে না।
খুব বেশি ক্লান্তিও চুল পড়ার কারণ।
রাশেদ মোহাম্মদ খান চুল স্বাস্থ্যউজ্জ্বল এবং সুস্থ রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন-
সবজি, ফল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ অর্থাৎ আঁশ ও প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি খেতে, চুল যেন পুষ্টি পায়। একই কথা বলেছেন হারমনি স্পার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। তিনি বাইরে ও ভেতর দুই দিক থেকেই চুলের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত যত্নও নিতে হবে চুলের। ডিম, দুধ, ছোট মাছ, ওমেগা ৩ যুক্ত সামুদ্রিক মাছ, আমলকী ও ভিটামিন \'ই\' যুক্ত খাবার চুলে পুষ্টি জোগাতে সবচেয়ে উপকারী। যাদের চুলে খুশকি বা মাথায় খুশকুড়ি আছে, তারা নারিকেল তেলের সঙ্গে এক চিমটি কর্পূর মিশিয়ে নিতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন তেল মালিশের পর চুল প্যাক লাগাতে পারেন। তবে চুলের গোড়া মজবুত রাখার জন্য সপ্তাহে তিন দিন নিয়ম করে তেল মালিশ করুন।
রাহিমা সুলতানা আরও বলেন, চুল সুস্থ থাকলেই তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ভালোভাবে বজায় থাকে। তাই চুল লম্বা ও সুন্দর করতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা। ঘরেই থাকা কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় সহজ কয়েকটি হেয়ার প্যাক।
আরও পড়ুন
এক রাতের সাজ-আজীবনের চোখের সমস্যা, রঙিন লেন্স ব্যবহারে কতটা ঝুঁকি
আমলকির রস চুলের জন্য ভালো। চাইলে এর সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল নরম হবে আবার কন্ডিশনারের কাজও করবে।
পেঁয়াজের রস কখনোই সরাসরি চুলে লাগাতে হয় না। পেঁয়াজের অ্যাসিড চুলের ক্ষতি করতে পারে। তাই এর সঙ্গে মেথি ও টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। শুষ্ক বা রুক্ষ চুলে দুধ ও মধুর প্যাক লাগাতে পারেন।
ডিম, টক দই, মেথি ও পাকা কলার প্রোটিন প্যাক চুলের জন্য বেশ ভালো।
টকদইয়ের সঙ্গে ত্রিফলা (আমলকি, হরিতকী, বহেড়া) মিশ্রণ চুল পড়া রোধ করে।
আরও পড়ুন
ফ্রিজে থাকা সাধারণ উপাদান ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল, জানুন কীভাবে
সপ্তাহে এক দিন যেকোনো একটি প্যাক মাথায় লাগাতে পারেন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। রিঠা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন, শ্যাম্পুর পরিবর্তে। কন্ডিশনার হিসেবে মেথি গুঁড়া দুই থেকে তিন ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া লেবুর রস, চায়ের লিকার ও পানি একসঙ্গে মিশিয়ে কন্ডিশনার তৈরি করে নিতে পারেন।
এসএকেওয়াই