ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য নির্মিত জিমনেশিয়াম উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন—এমন অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন। তার অভিযোগ, উদ্বোধনের তারিখ বারবার পরিবর্তন করতে করতে প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও প্রশাসন এখনো বিভিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)-এর সঙ্গে দেখা করেও জিম উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে পারেননি বলে জানান ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক।
তিনি বলেন, ‘রোববার প্রোভিসি (অ্যাডমিন) স্যারের কাছে গিয়েছি। কিন্তু ছাত্রীদের জিম উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ জানালেন না। তারিখ পরিবর্তন করতে করতে প্রায় পাঁচ মাস চলে গেল। অথচ প্রশাসন এখনো নানা প্রশাসনিক ত্রুটি খুঁজে সময়ক্ষেপণ করছে।’
আরও পড়ুন
ডাকসুর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক জিমনেসিয়াম
তিনি জানান, গত সপ্তাহের রোববার ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য, প্রো-ভিসি ও প্রক্টরের উপস্থিতিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেদিন প্রো-ভিসি পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার ডাকসুর ভিপিকে রোববার সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে রোববারও এ বিষয়ে আশানুরূপ কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জিম চালুর আগে ওয়াশরুম নির্মাণের দাবি
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন জানান, আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি বিষয় সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো—ছাত্রীদের জন্য ওয়াশরুম তৈরি করার পর জিম চালু করতে হবে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত মিটিংয়েই আমরা জানিয়েছিলাম, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নেই। রুচির দুর্ভোগের কারণে মেয়েদের বর্তমান টয়লেটে শাওয়ার লাগানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, ছাত্রীদের সেখানে কী পরিমাণ অবহেলা করা হয়।’
পরিচালকের কক্ষের পাশে জিম নিয়েও আপত্তি
দ্বিতীয় আপত্তির বিষয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বলেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালকের কক্ষের পাশে জিম স্থাপন করা হয়েছে—এটি প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
তার ভাষ্য, ‘ডিরেক্টরের রুমের সামনে দিয়ে মেয়েরা জিমে আসা-যাওয়া করবে—এটি ভালো দেখায় না। কোনো মেয়ে যদি বলে বসে, অমুক আমার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়েছে।’
ক্রীড়া সম্পাদককে না জানানোর অভিযোগ
এদিকে ছাত্রীদের জিমের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়েও কথা বলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন।
তিনি জানান, পরিচালক তাকে বলেছেন, আগামীকাল ফুটবল কমিটির সভা রয়েছে। তবে ওই সভার বিষয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে তাকে কেন জানানো হয়নি—এমন প্রশ্ন করলে পরিচালক এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
আরও পড়ুন
নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে জাকসুর মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বলেন, ‘কমিটির মিটিং তো পরিচালকই ডাকেন। তখন তার বক্তব্য ছিল—এখানে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের কোনো বিষয় নেই; প্রয়োজন থাকলে ডাকবে।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে সম্পৃক্ত না করার একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের সঙ্গে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের কোনো সম্পর্ক নেই—এমন একটি কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। যেন ক্রীড়া সম্পাদকের কাজ শুধু নিজের বাজেট দিয়ে খেলা আয়োজন করা। আর যেহেতু বাজেট নেই, তাই ক্রীড়া সম্পাদকের কাজও নেই।’
ডাকসুকে দূরে সরিয়ে রাখার অর্থ খেলোয়াড়দের কণ্ঠরোধ করা
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন আরও বলেন, ফুটবল কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের সম্পৃক্ততা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ডাকসুকে এসব কার্যক্রম থেকে ক্রমাগত দূরে রাখা হচ্ছে।
তার দাবি, এর ফলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে এবং খেলোয়াড়দের দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
রাবির জিমনেসিয়াম: পাকিস্তান আমলে যা এখনো তা
তিনি বলেন, ‘ডাকসু তো কোনো প্রতিপক্ষ বা রাজনৈতিক দল নয়। ডাকসু শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। ক্রীড়া কার্যক্রমে ডাকসুকে দূরে সরিয়ে রাখার অর্থ হলো খেলোয়াড়দের কণ্ঠরোধ করা।’
আরটি/এসএইচএস