ফেনীতে একসঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে গত বছরের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বড় অংশই শিশু। এতে দুই রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ফেনীতে ৩০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯১ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৯ জন হাম রোগী।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় অংশই চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩৩০ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৫৯ জন।
উপজেলা পর্যায়ে সোনাগাজীতে ১৩২ জন, দাগনভূঞায় ৫৬, ছাগলনাইয়ায় ১৮ এবং ফুলগাজী ও পরশুরামে দুজন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ফেনী পৌর এলাকায় ২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সোনাগাজীতে ৮, দাগনভূঞায় ৪, ফেনী সদরে ২, ফুলগাজীতে ২ এবং ছাগলনাইয়ায় একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
ডেঙ্গুতে ছাড়িয়ে গেছে গত বছরের রেকর্ড
ফেনীতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে জেলায় মোট ২০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৫ জনে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৯৮ জন। এছাড়া দাগনভূঞায় ৩৬, সোনাগাজীতে ৩০, ছাগলনাইয়ায় ২০, ফুলগাজীতে ১১ এবং পরশুরামে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
শহরে বাড়ছে মশার উপদ্রব
এদিকে ফেনী শহরে মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়মিত ওষুধ না ছিটানোয় ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার মশকনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের ওপরও বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে