বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে নেপাল। এতে নেপাল থেকে প্রতিদিন যে বিদ্যুৎ আসতো, গত ১২ দিন ধরে সেটি আর আসছে না। বন্যায় দেশটির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ওয়েবসাইটে এ তথ্য পাওয়া যায়।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট ডে পিক আওয়ারে নেপাল থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। তবে, সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে কোনো বিদ্যুৎ আসেনি। তারপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।
গত বুধবার নেপালের দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। নেপালের ভোটেকোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় দেশটির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন
ভারতে বিদ্যুৎ রপ্তানি ৫০ শতাংশ কমালো নেপাল, নেপথ্যে যে কারণ
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদী এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় মাত্র কিছুদিন আগে। কিন্তু, এই বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল। এখন তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
নেপাল বহু বছর ধরে, বিশেষ করে শুষ্ক শীতের মাসগুলোয় বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভর করে আসছিল। দেশটি এখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এমন সময়ে নেপালে আঘাত হানা এই দুর্যোগে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন দেখা দিল।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকে প্রকল্প দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এনএস/এএমএ