ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা অন্য কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অনেকেরই নিত্যদিনের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম।
তবে সঙ্গে যদি তুলনামূলক বেশি পরিমাণ টাকা থাকে, তাহলে সাধারণ সময়ের চেয়ে একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ ভিড়ের মধ্যে অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে চুরি, ছিনতাই কিংবা টাকা হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষ করে বেতন তোলা, ব্যবসার লেনদেন, কেনাকাটা কিংবা জরুরি কোনো কাজে যাওয়ার সময় অনেকেই একসঙ্গে বেশি টাকা বহন করেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-টাকা কোথায় এবং কীভাবে রাখছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা।
এক জায়গায় সব টাকা রাখবেন না
সঙ্গে বেশি টাকা থাকলে সবগুলো একই মানিব্যাগ বা ব্যাগের একটি পকেটে রাখা ঠিক নয়। সম্ভব হলে টাকা কয়েক ভাগ করে আলাদা নিরাপদ জায়গায় রাখুন। এতে কোনো একটি জায়গা থেকে টাকা হারিয়ে গেলেও পুরো অর্থ একসঙ্গে হারানোর ঝুঁকি কমে।তবে টাকা এমন জায়গায় ভাগ করে রাখবেন না, যেখানে বের করতে গিয়ে বারবার ব্যাগ খুলতে হয়। প্রয়োজনের সময় প্রকাশ্যে টাকা গোনার অভ্যাসও এড়িয়ে চলুন।
মানিব্যাগ ও ব্যাগ নিয়ে সতর্ক থাকুন
গণপরিবহনে ভিড়ের মধ্যে পেছনের পকেটে মানিব্যাগ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সামনের বা ভেতরের নিরাপদ পকেট ব্যবহার করা তুলনামূলক ভালো। ব্যাগে টাকা রাখলে ব্যাগটি শরীরের সামনের দিকে রাখুন এবং চেইন বা ক্লিপ ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
বিশেষ করে বাসে ওঠা-নামার সময় কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে নিজের ব্যাগ ও পকেটের দিকে বাড়তি নজর রাখুন। কেউ অস্বাভাবিকভাবে খুব কাছাকাছি আসলে বা অকারণে ধাক্কাধাক্কি করলে সতর্ক হয়ে যান।
হেলপার-ড্রাইভারকেও অন্ধভাবে বিশ্বাস নয়
গণপরিবহনে যাত্রার সময় শুধু অপরিচিত যাত্রী নয়, পরিবহনের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। বাসের হেলপার, চালক কিংবা অন্য কোনো কর্মীকে পরিচিত মনে হলেও সঙ্গে থাকা টাকার পরিমাণ, কোথায় টাকা রেখেছেন বা কী কাজে এত টাকা নিয়ে যাচ্ছেন-এসব তথ্য অপ্রয়োজনে কাউকে জানাবেন না।
কেউ আপনার ব্যাগ কোথায় রাখতে হবে, টাকা বের করতে হবে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক থাকুন।
কোনো চালক বা হেলপার যদি আপনাকে নির্জন জায়গায় নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, অস্বাভাবিকভাবে রুট পরিবর্তন করেন কিংবা আচরণে সন্দেহজনক কিছু মনে হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত কাউকে জানান এবং নিরাপদ ও জনবহুল জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন।
প্রকাশ্যে টাকা বের করবেন না
কত টাকা সঙ্গে আছে, সেটি অন্যের সামনে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। দোকান, বাসস্ট্যান্ড কিংবা যানবাহনের ভেতরে দাঁড়িয়ে বড় অঙ্কের টাকা বের করে গোনা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজন হলে আগে থেকেই দিনের খরচের টাকা আলাদা করে রাখতে পারেন।
একইভাবে টাকা রাখার জায়গা সম্পর্কে অপরিচিত কাউকে বলাও ঠিক নয়। আপনার আর্থিক লেনদেন বা সঙ্গে থাকা অর্থের পরিমাণ যত কম প্রকাশ পাবে, ততই ভালো।
ফোনেও সাবধান
বর্তমানে টাকা বহনের সঙ্গে স্মার্টফোনের ব্যবহারও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করলে গণপরিবহনের ভিড়ে প্রকাশ্যে বড় অঙ্কের লেনদেন না করাই ভালো। পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কখনোই অন্য কাউকে জানাবেন না।
কেউ ফোনে ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার কর্মী পরিচয় দিয়ে গোপন তথ্য চাইলে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজন হলে নিজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করুন।
যাত্রার আগে পরিকল্পনা করুন
যদি জানেন যে সেদিন সঙ্গে বেশি টাকা রাখতে হবে, তাহলে যাতায়াতের পরিকল্পনাটিও একটু সচেতনভাবে করুন। সম্ভব হলে অপ্রয়োজনীয় ভিড়ের সময় এড়িয়ে চলুন। নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবহার করুন এবং অপরিচিত বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে একা না থাকাই ভালো।
বড় অঙ্কের টাকা বহনের প্রয়োজন হলে নগদ অর্থের পরিবর্তে নিরাপদ ও বৈধ ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করতে পারেন।
বিপদে পড়লে কী করবেন?
গণপরিবহনে টাকা হারিয়ে গেলে বা ছিনতাইয়ের শিকার হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কারও সঙ্গে তর্ক বা ধস্তাধস্তিতে জড়াবেন না। নিজের নিরাপত্তাকে সবার আগে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজন হলে দ্রুত চালক, পরিবহনকর্মী, আশপাশের দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এবং যাতায়াতের এলাকার সংশ্লিষ্ট থানার ফোন নম্বর মোবাইলে আগে থেকেই সেভ করে রাখুন।
আরও পড়ুন
তরুণ প্রজন্ম কেন দ্রুত হারাচ্ছে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি?
বেশি টাকা থাকা মানেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং আগে থেকেই একটু সচেতন থাকলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। টাকা কত বেশি-তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটি কীভাবে নিরাপদে বহন করছেন।
আরও পড়ুন
ডোরেমন দেখে যারা বড় হয়েছেন; তাদের জীবন কেন সবার চেয়ে আলাদা
গণপরিবহনের ভিড়ে তাই ব্যাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, টাকা প্রকাশ্যে না দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা এবং যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহনের কর্মী-সবার ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় দূরত্ব ও সতর্কতা বজায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: উইকিহাউ, স্প্রিং ফিল্ড
এসএকেওয়াই