দুঃখী রামের হাতের জাদুতে এলাকাবাসীর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে ৫ টাকার ‘সুখী সিঙাড়া’। সাঁঝের আঁধার নামতেই বাঁশকোটা গ্রামের মেঠো পথের ধারে ছোট একটা দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। গরম গরম মচমচে সিঙাড়া কড়াই থেকে তোলা হচ্ছে।
সন্ধ্যা নামলেই মাগুরা সদরের বাঁশকোটা গ্রামের মেঠো পথের ধারে শুরু হয় এক অন্যরকম অপেক্ষা। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে শত শত ভোজনরসিক মানুষ জমায়েত হন একটা বিশেষ স্বাদের খোঁজে। ৫ টাকার এক জাদুকরী স্বাদ, যা নিমেষেই ছড়িয়ে দেয় তৃপ্তির হাসি। স্থানীয়দের ভালোবাসা আর স্বাদের কারণে এই দোকানের নাম এখন ‘সুখী সিঙাড়া’।
মা এবং মেয়ে সিঙাড়া তৈরি করেন, বাবা ভাজেন এবং পরিবেশন করেন। সিঙাড়া কেটে মরিচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা এবং পেঁপের সালাদের ওপরে সসের মিশেল সিঙাড়ার স্বাদ বাড়িয়ে তোলে।
শহর থেকে সিঙাড়া খেতে আসা যুবক মো. আশিক বলেন, এত অল্প টাকায় এত সুস্বাদু খাবার পাওয়া এবং খাওয়াটা খুবই কঠিন। এখানে আমরা প্রায়ই আসি, খেয়ে তৃপ্তি পাই। সময়টা খুবই উপভোগ্য হয়। এই দোকানের সবথেকে দারুণ বিষয় হচ্ছে সিঙারা কেটে সালাদ দিয়ে পরিবেশন করে। যার জন্য স্বাদটা বেড়ে যায় অনেকগুণ।
মাত্র ৫ টাকায় মিলছে এমন এক স্বাদ, যা নিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন শত শত ভোজনরসিক। মাগুরা জেলার বাঁশকোটা গ্রামের বাসিন্দা দুঃখী রামের হাত ধরে গত ৬ বছর ধরে চলছে এই স্বাদ ও স্বপ্নের যাত্রা। অভাবের দিনগুলোকে পেছনে ফেলে তার বানানো বিশেষ সিঙারা আজ শুধু পেটই ভরাচ্ছে না, ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃপ্তির হাসি। তাই স্থানীয়রা ভালোবেসে এর নাম দিয়েছেন ‘সুখী সিঙাড়া’।
প্রবীণ ক্রেতা নারায়ন মন্ডল বলেন, দুঃখী রামের এই বিশেষ সিঙাড়ার চাহিদা কতটা ব্যাপক, তা বোঝা যায় দোকানের বিক্রির হিসাব দেখলে। প্রতিদিন কেবল সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা এই অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। আমি প্রতিদিন ৫টা সিঙাড়া খাই এবং বাসার জন্য নিয়ে যাই। এই সিঙাড়া খেয়ে আমার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
দুঃখী রাম প্রতিদিন ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার পিস সিঙাড়া ভাজেন। তবে শুক্র ও শনিবার তাকে ১২ হাজার পিসও ভাজতে হয়। ৬ বছর আগে ছোট পরিসরে শুরু করলেও, দুঃখী রামের হাতের জাদুকরী রেসিপি আর সাধ্যের মধ্যে সেরা মানের কারণে খুব অল্প সময়েই এই দোকানটি পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় যুবক সাগর মিয়া বলেন, খাঁটি মসলার সঠিক মিশ্রণ, মচমচে খামির আর মাত্র ৫ টাকা দামে এত দারুণ স্বাদ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বাঁশকোটা গ্রামের মেঠো পথের ধারের এই ছোট্ট দোকানটি এখন মাগুরার এক জনপ্রিয় খাদ্য-ঠিকানা। জীবনের সব দুঃখ ভুলে দুঃখী রাম যেভাবে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন, তার এই ‘সুখী সিঙাড়া’ সত্যিই অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সুখী সিঙাড়ার স্বত্বাধিকারী দুঃখী রাম বলেন, এখানে ৫ টাকার সিঙাড়া সবচেয়ে বেশি পছন্দ ক্রেতাদের। তবে এর বাইরে ডিমের সিঙাড়াও তৈরি করি। ২০ থেকে ৩০টা সিঙাড়া দিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ ১২ হাজার সিঙাড়াও বিক্রি করি। সন্ধ্যার পর যে পরিমাণ মানুষ এখানে আসেন, বসা বা দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেই। চেষ্টা করব খুব দ্রুত এখানে বসার সুব্যবস্থা করার।
জীবনের হাজারো টানাটানি আর অভাবকে জয় করে দুঃখী রাম আজ মাগুরার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম। তার হাতের এই ‘সুখী সিঙাড়া’ শুধু মানুষের পেটই ভরাচ্ছে না, ছড়িয়ে দিচ্ছে জীবনকে ইতিবাচকভাবে জয় করার বার্তা।
এফএ/এএসএম