নিরাপত্তা„ ন্যায়বিচার ও কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা চেয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন করেন কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি মালিক নারী উদ্দোক্তা নাজমা খাতুন এবং তার স্বামী মিজানুর রহমান। এন এস আই কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, তার প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আটকে রাখা, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ; বর্তমানে তার নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা এবং কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি রক্ষায় সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেন এই নারী উদ্দোক্তা নাজমা খাতুন।
রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খা হলে গতকাল ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং নাজমা খাতুন লিখিত বক্তব্য বলেন, আজ আমি এসেছি একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন নারী উদ্দোক্তা এবং একজন বিপর্যস্ত মানুষের শেষ আশ্রয় হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে। আমি আপনাদের মাধ ̈মে সরকারের কাছে বলতে চাই আমি বাঁচতে চাই।আমার পরিবারকে বাঁচাতে চাই। এবং কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি রক্ষা করতে চাই।
আমার দুই মেয়ে নিরাপত্তার কারণে ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। আমার অভিযোগ অনুযায়ী, আমাদের খুঁজে না পেয়ে আমাদের বাসায় গিয়ে আমার মেয়েদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে অসহায় পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? আমি আজ আপনাদের মাধ ̈মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশিষ্ট সকল কর্মকর্তা পক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি সেই নাজমা যে শূন ̈ থেকে শুরু করেছিল। আমি কোনো বিত্তশালী পরিবারের সন্তান নই।আমি বাংলাদেশের একটি পিছিয়ে পড়া গ্রামের একজন সাধারণ নারী।
২০০৫ সালে মাত্র ২০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে আমি কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করি।পথটা সহজ ছিল না।একজন নারী হিসেবে ব ̈বসা করতে গিয়ে আমাকে অসংখ ̈ বাধা, প্রতিকূলতা এবং সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। নিজের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ অনেক কিছু বিসর্জন দিয়ে আমি আমার প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে, মানুষের জন ̈ কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে আমি দিনের পর দিন পরিশম্র করেছি। একসময় আমার কারখানায় শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। আমার প্রতিষ্ঠানে একসময় প্রায় ৪০০ মানুষ কাজ করেছে।
আমরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জুতা সরবরাহ করেছি। ব ̈বসার মাধ ̈মে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার চেষ্টা করেছি এবং সরকারকে নিয়মিত আয়কর দিয়েছি।
আমার এই পথচলার স্বীকৃতিও আমি পেয়েছি।২০১৯ সালে মাঝারি শিল্প খাতে বর্ষসেরা নারী উদ্দোক্তা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছি।শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে।
এই সময় আমার অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে সব হারিয়ে যখন ভেংে পরেছিলাম তখন আকরাম হোসেন নামে একজন ব্যাক্তি নিজেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার NSI-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় হয় ,তার একটি সাত তলা বিশিষ্ট পরিত্যক্ত বিল্ডিং ছিল। তিনি আমাকে আশ্বাস দেন যে, সাভারের বিরুলিয়া এলাকার তাঁর ভবনে কারখানা ̄স্থানান্তর করলে তিনি বাংক ঋণের ব্যবস্থা এবং চায়না কোম্পানী থেকে বাকিতে কাঁচামাল ও কেমিক ̈াল সংগ্রহের করতে সহযোগিতা করবেন। একজন বিপর্যস্ত উদ্দোক্তা হিসেবে আমি সেই আশা¦সে বিশা¦স করি। আমার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূলে ̈র মেশিনারি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল তাঁর ভবনের চারটি ফ্লোরে ̄স্থানান্তর করি।
কারখানা চালুর জন্য ̈ নিজের অর্থে মেরামত, বিদু ̈ৎ সংযোগসহ বিভিন্ন কাজে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব ̈য় করি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রতিশ্রু ত ঋণ ও কাঁচামালের ব্যবস্থা না করে বিভিন্ন ধরনের অর্থের দাবি ও চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরিি ̄’তির কারণে ২০২৬ সালের ফেবধুয়ারিতে আমাকে কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। এরপর আমার ওপর আমার মেশিন ও মালামাল কম মূলে ̈ বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় ।আমি এতে রাজি হইনি।কারণ এই গুলোই ছিল আমার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্বল।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমা খাতুন সরকারের কাছে ৭টি আবেদন জানান।
১. আমার এবং আমার পরিবারের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য̈ জরুরর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
২. আমার অভিযোগে উল্লিখিত ভয়ভীতি, হুমকি, হামলা ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
৩. NSI-এর কর্মকর্তা পরিচয় ̈বহারের বিষয়ে আমার অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক। কেউ যদি সতি ̈ই ভুয়া পরিচয় ব ̈বহার করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা’ নেওয়া হোক।
৪. আমার প্রতিষ্ঠানের আটকে থাকা মেশিনারি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সম্পর্কে আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা’ গ্রহণ করে আমার সম্পদ উদ্ধারে সহযোগিতা করা হোক।
৫. আমার বাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুনর্গঠন/পুনঃতফসিলের মাধ ̈মে ব ̈বসা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হোক।
৬.সরকারি ও বেসরকারি শিল্পসংশিষ্ট প্রতিষ্ঠা আমার মতো বিপর্যস্ত পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হোক।
৭. কুসুম কলি সু ফ্যাক্টরি রকে পুনরায় চালু করার জন ̈ প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহযোগিতার সুযোগ দেওয়া হোক।