কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণের ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মো. তৌহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা নগর ভবনে কুমিল্লা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পিডব্লিউডি, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. সিরিফুল হক, কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহবুব-এ-এলাহী, পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান ও সহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুস সালাম।
আরও পড়ুন
রানওয়ে অচল, সিগন্যালে সচল কুমিল্লা বিমানবন্দর
কমিটি কুমিল্লা বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকার মধ্যে নির্মিত বহুতল ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোর উচ্চতা ছাড়পত্র ও জিপিএস কোঅর্ডিনেশনের তথ্য যাচাই করবে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য, মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটিকে ওএলএস ফানেল ও রেড জোনের মধ্যে থাকা নির্মিত, নির্মাণাধীন ও নির্মিতব্য বহুতল ভবন চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব ভবনের উচ্চতা ছাড়পত্র ও জিপিএস কোঅর্ডিনেশনের তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া কুমিল্লা বিমানবন্দরের ওএলএস ও রেডিয়াস অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা সীমা এবং রেড জোনের আওতাভুক্ত মৌজাগুলোর তথ্যও চেয়েছে সিটি করপোরেশন।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুন জাগো নিউজকে বলেন, বিমানবন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক নিয়ন্ত্রণে এবং সীমানাসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৩ জুলাই ‘রানওয়ে অচল, সিগন্যালে সচল কুমিল্লা বিমানবন্দর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ। সেখানে বলা হয়, ৭৭ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিমানবন্দরটিতে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। বেশিরভাগ এলাকায় চাষ করা হয়েছে ঘাস। ভেতরে রয়েছে ছোট ছোট একাধিক পুকুর। টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম ভেঙে গড়ে উঠেছে বহু আবাসিক ভবন।
জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/জেআইএম