
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটন খাতে অবদানের জন্য ১২টি শাখায় ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেবে সরকার। টেকসই পর্যটন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এ পুরস্কারের আয়োজন। মনোনয়নের শেষ সময় ৯ সেপ্টেম্বর।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ পুরস্কার দেবে। আয়োজকেরা জানিয়েছে, এর লক্ষ্য পর্যটনশিল্পে উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা ও উদ্ভাবনের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্যদের উৎসাহিত করা।
বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ
বর্ষসেরা হোটেল/রিসোর্ট
বর্ষসেরা ট্যুর অপারেটর
বর্ষসেরা বিনোদন পার্ক
বর্ষসেরা তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা
বর্ষসেরা হোমস্টে
বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর
বর্ষসেরা পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ
বর্ষসেরা পর্যটন নারী উদ্যোক্তা
বর্ষসেরা ট্যুরিস্ট ভেসেল
বর্ষসেরা ট্যুর গাইড
বর্ষসেরা মাইস (মিটিং, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স ও এক্সিবিশন) উদ্যোগ
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—
পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কমিউনিটি নির্ধারিত ফরমের (https://forms.gle/etEHu1Gj1k1kkiVLA) মাধ্যমে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে পারবেন।
একজন অংশীজন একটি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দিতে পারবেন।
প্রতিটি ক্যাটাগরিতে একটি করে পুরস্কার দেওয়া হবে।
একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না।
তবে বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ এবং বর্ষসেরা পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
ট্যুরিজম বোর্ডের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মনোনয়ন দেওয়া ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় কমিউনিটিকে বাংলাদেশে বৈধভাবে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা ও ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির ব্যবসা বা উদ্যোগ কমপক্ষে দুই বছর ধরে চালু থাকতে হবে।
পুরস্কারের জন্য যে উদ্যোগের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেটি মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও কার্যকর থাকতে হবে।
মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও আয়কর পরিশোধের সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বশেষ দুই বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির আইনগত সনদ, লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র বা আইএসও সনদসহ প্রযোজ্য নথি দিতে হবে। উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠানের ছবি বা ভিডিও থাকলে সেসবও জমা দেওয়া যাবে।
কোনো গুরুতর আইনভঙ্গ, প্রতারণা, পর্যটক হয়রানি, নিরাপত্তা লঙ্ঘন, ঋণখেলাপি, করখেলাপি বা পরিবেশগত অপরাধের বিষয়ে প্রমাণিত অভিযোগ থাকলে সেই মনোনয়ন বিবেচনা করা হবে না।
প্রাপ্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ক্যাটাগরিভিত্তিক জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। নির্ধারিত মূল্যায়ন শর্ত ও নম্বরের ভিত্তিতে সেরা মনোনয়ন নির্বাচন করবে জুরি বোর্ড। প্রয়োজনে মনোনীত প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগ সরেজমিন পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করতে পারবে জুরি বোর্ড।
নির্বাচিত উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর সাক্ষাৎকার ও তথ্যচিত্রও তৈরি করা হবে। পুরস্কারের বিষয়ে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পুরস্কার দেওয়ার তারিখ ও স্থান বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.tourismboard.gov.bd) পুরস্কার সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত জানা যাবে।