বাবার মতোই হচ্ছে লিওনেল মেসির ছেলে মাতেও মেসি! বাবার দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে ছোট্ট ছেলেটি। এবার মাতেও মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে যোগ হলো আরও একটি সাফল্য। ইন্টার মিয়ামি একাডেমির হয়ে ন্যাপলস কাপের শিরোপা জিতলো শিগগিরই ১১ বছরে পা দিতে যাওয়া এই খুদে ফুটবলার। শুধু শিরোপা জয়ই নয়, দলটির অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছে মেসির দ্বিতীয় ছেলে।
মেসির ফুটবল-জীবনের শুরু থেকেই তার সন্তানদের নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। বাবার মতো মাতেওরও ফুটবলের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এবার সেই পথচলায় আরও একটি স্মরণীয় অর্জন যোগ হলো। ইন্টার মিয়ামি একাডেমিকে ন্যাপলস কাপের চ্যাম্পিয়ন করায় মাতেওর হাতে উঠেছে শিরোপার ট্রফি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ন্যাপলস কাপের ট্রফি হাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাতেও। মুখে ছিল উচ্ছ্বাসের হাসি। ট্রফিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা থাকায় সাফল্যের মুহূর্তটি আরও ‘বিশেষ’ হয়ে উঠেছে তার জন্য।
মেসির তিন ছেলের মধ্যে মাতেও দ্বিতীয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তার ১১তম জন্মদিন। বড় ভাই থিয়াগোর বয়স বর্তমানে ১৩ বছর। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সিরোর বয়স ৮ বছর।
মাতেওর এই সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভক্তদের নজর কেড়েছে। মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের ছেলে হিসেবে ছোটবেলা থেকে স্বাভাবিকভাবেই তার ফুটবল-যাত্রার প্রতি বাড়তি আগ্রহ রয়েছে সমর্থকদের। ন্যাপলস কাপের শিরোপা জয়ের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে, সন্দেহ নেই।
মাতেওর এই সাফল্যের খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তার বাবা লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন।
মেসি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে আর কিছু দেওয়ার নেই তার। সিদ্ধান্তটি তাকে কষ্ট দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তবে একই সঙ্গে জাতীয় দলে উঠে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
নিজের অবসরের বার্তায় মেসি লিখেছেন, সময় ফুরিয়ে আসছে, অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং এটিও এমন একটি অধ্যায়, যার সমাপ্তি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলের অংশ হওয়াকে তিনি ভালোবাসেন এবং সবসময় ভালোবাসবেন বলেও জানিয়েছেন।
মেসির ভাষায়, তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন এবং এখন তার আর কিছু দেওয়ার নেই। তারপরও দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা নিজেদের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য—এমন কথাও বলেছেন তিনি।
মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের দুইদিন পর, ২১ জুলাই তিনি অবসরের বার্তাটি লিখেছিলেন। এর মাত্র দুই দিন আগে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা।
এর আগে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান মেসি। কাতারে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনার হয়ে শিরোপা জিতে পূর্ণ হয় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন।
জাতীয় দল থেকে বিদায়ের বার্তায় মেসি সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গত দুই দশকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, মাঠে থেকে দর্শকদের কণ্ঠ শোনাটা তিনি ভীষণ মিস করবেন। তবে এখন থেকে মাঠের বাইরে একজন সাধারণ সমর্থকের মতোই আর্জেন্টিনাকে উৎসাহ ও সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আইএইচএস/