গোলরক্ষকের প্রধান কাজ প্রতিপক্ষের গোল ঠেকানো। কিন্তু সেই গোলরক্ষকই যদি এক ম্যাচে দুই গোল করেন, তাহলে সেটি হয়ে যায় বিরল ঘটনা। আর সেই দুই গোল যদি আসে পেনাল্টি থেকে এবং তাতে লেখা হয় লিগ ইতিহাস- তাহলে ঘটনাটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।
ডাচ ফুটবলে ঠিক এমনই ইতিহাস গড়েছেন রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র। টেলস্টারের ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এক ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল। তার দুই পেনাল্টি গোলেই ঘরের মাঠে কামবুরের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে টেলস্টার।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এরেডিভিসির ইতিহাসে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা প্রথম গোলরক্ষক এখন কোয়েমান জুনিয়র।
নামটা শুনলেই অবশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে চলে আসবে নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি রোনাল্ড কোম্যানের কথা। টেলস্টারের এই গোলরক্ষক সেই রোনাল্ড কোম্যানেরই ছেলে। বাবার মতো তিনিও ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন, তবে পজিশনটা আলাদা- বাবা ছিলেন বিশ্বখ্যাত ডিফেন্ডার, আর ছেলে দাঁড়ান গোলপোস্টের নিচে।
কামবুরের বিপক্ষে ম্যাচটি টেলস্টারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বরং একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ঘরের মাঠে বড় হারের দিকেই এগোচ্ছে তারা। ম্যাচের ২২ মিনিটেই বিপদ আরও বাড়ে। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন টেলস্টারের থোরিসন। একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই চলে যায় প্রতিপক্ষের হাতে।
RONALD KOEMAN JR. SCOORT ZIJN TWEEDE VANDAAG EN REDT EEN PUNT #telcam pic.twitter.com/A3SG3QkHQb
— ESPN NL (@ESPNnl) September 6, 2026
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে টেলস্টারের দুর্দশা আরও বাড়ে। ৬০ মিনিটের সময় স্কোরবোর্ডে দেখা যায় ২-০। ১০ জনের টেলস্টারের সামনে তখন ম্যাচে ফেরাটা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল; কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষ হয় না, সেটিই আবার প্রমাণিত হলো।
নায়ক গোলরক্ষক কোয়েমান
টেলস্টার ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় দুটি পেনাল্টি থেকে। আর গোল করার দায়িত্ব নিতে গোলপোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন তাদের গোলরক্ষক কোয়েমান জুনিয়র। পেনাল্টি নেওয়া তার জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। টেলস্টারের নিয়মিত পেনাল্টি টেকার হিসেবেই পরিচিত তিনি। এবারও স্নায়ুচাপকে পাত্তা দেননি।
প্রথম পেনাল্টিতে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান কোয়েমান। ২-১। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায়। টেলস্টারের সামনে তখন অন্তত একটি পয়েন্ট পাওয়ার শেষ সুযোগ। আর সেই সুযোগটিও আসে পেনাল্টি থেকে।
ঘড়ির কাঁটা তখন ১০১ মিনিটে। ম্যাচের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে টেলস্টারের ভাগ্য নির্ধারণ করতে গোলপোস্ট ছেড়ে আবারও স্পট কিক নিতে যান কোয়েমান। চাপ ছিল প্রচণ্ড। একটি গোল করলে টেলস্টার পাবে এক পয়েন্ট, আর ব্যর্থ হলে ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে।
কিন্তু চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেন কোয়েমান। তার দ্বিতীয় গোলেই ২-২ সমতায় ফেরে টেলস্টার। একজন গোলরক্ষকের জন্য এটি শুধু ম্যাচ বাঁচানো নয়, একই সঙ্গে ইতিহাস তৈরি।
একই দলে সিডর্ফের ছেলেও
টেলস্টারের এই ম্যাচে আরও একটি পরিচিত ফুটবল পরিবারের নাম আছে। দলটির হয়ে খেলছেন সাবেক ডাচ ও এসি মিলানের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ক্লারেন্স সিডর্ফের ছেলে জেলানি সিডর্ফ।
অর্থাৎ, একই দলে একদিকে রোনাল্ড কোম্যানের ছেলে, অন্যদিকে ক্লারেন্স সিডর্ফের ছেলে- দুই কিংবদন্তির উত্তরসূরিদের উপস্থিতিও টেলস্টারের দলটিকে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ। তবে কামবুরের বিপক্ষে আলোটা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন কোয়েমান জুনিয়রই।
লাল কার্ড, দুই গোলের পিছিয়ে পড়া, শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি- সব বাধা পেরিয়ে টেলস্টারকে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছেন গোলরক্ষক কোম্যান।
আইএইচএস/