রাজশাহীর বাঘায় গরু ও ছাগল চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। এতে শিমুল হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অপরজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার জোতকাদিরপুর গ্রামের ইয়ারুলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিমুল হোসেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। আহত সমজান আলী (৫০) একই গ্রামের নবির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই রাতে ইয়ারুলের গোয়ালঘরে থাকা গরু ও ছাগল চুরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে শিমুল ও সমজানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির মালিক ইয়ারুল শয়নকক্ষের দরজা খুলে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দুজনকে আটক করে মারধর করেন।
পরে আহত অবস্থায় দুজনকে একই ভ্যানে করে রাত পৌনে ২টার দিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসমাইল শিমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আহত সমজানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামেক হাসপাতালে পাঠানোর আগে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অচেতন থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
বাড়ির মালিক ইয়ারুল ও পুলিশের ভাষ্য, গোয়ালঘরে আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু এবং প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সাতটি ছাগল ছিল। চুরির চেষ্টা করার সময় বিষয়টি টের পেয়ে তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এসে দুজনকে আটক করেন।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, নিহত শিমুলের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বাড়ির মালিক ইয়ারুলের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/এএসএম