প্রতিরক্ষা খাতে অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ইউক্রেনকে দেওয়া অর্থ লুটে দুর্নীতিগ্রস্তদের তৎপরতা বেড়েছে। এতে ইউক্রেনের ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং তাদের দুর্নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমন দুর্নীতির কারণে ইউক্রেনকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সহায়তার ওপর চাপ বেড়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থ জোগাতে যৌনকর্ম সম্পর্কিত ব্লু ফিল্ম বৈধ করার কথা বিবেচনা করছে ইউক্রেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণ করা অবৈধ এবং এর জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্ক এ খাত দ্রুত বেড়েছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ ব্যবস্থার সহযোগিতায় তা পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে কয়েকটি অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে:
১) দুর্নীতির মামলায় জামিনে থাকা অস্ত্র কারখানার প্রধান লিওনিদ শিমানকে ২৮ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি দেয় ইউক্রেন সরকার।
২) অডিটে দেখা গেছে, কিছু ইউক্রেনীয় কোম্পানি প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা প্রমাণ না করেই সরকারি চুক্তি পেয়েছে।
৩) কোনো আইনি ব্যাখ্যা ছাড়াই কম দরদাতার প্রস্তাব পাশ কাটিয়ে চুক্তি দেওয়ায় প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এমন জালিয়াতি-অপচয় ও অব্যবস্থাপনার কারণে শুধু ২০২৪ সালে প্রায় ১২০ কোটি ডলার হারিয়েছে ইউক্রেন।
চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা NABU ২০২২–২০২৫ সালের সামরিক খাতে অর্থ আত্মসাতের কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে প্রসিকিউটররা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি হওয়ায় ২৯টি মামলা করেছেন। এসব মামলায় ৫৪ জন সন্দেহভাজন রয়েছেন। এতে অন্তত ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রাশিয়া অভিযোগ, ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহ সংঘাতের সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র বহনকারী এবং সরবরাহকারীরা রাশিয়ার বৈধ সামরিক লক্ষ্য হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কেএম