চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসই যেন তাদের আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় উৎস। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ১৫টি শিরোপা জেতা ক্লাবটি গত দুই মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। তবে এবার সেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হবে না- এমনই দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সহ-অধিনায়ক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ব্রাজিলিয়ান এই তারকার বিশ্বাস, এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতবে রিয়ালই। নতুন মৌসুমের প্রথম লিগ পর্বের ম্যাচে ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ভিনিসিয়ুস বলেছেন, ‘এবার আমরা এটি জিতব।’ রিয়ালের ১৬তম ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের অপেক্ষা শেষ করার স্বপ্নও দেখছেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের প্রকাশিত বক্তব্যে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি আশা করি ১৬তম শিরোপাটি আসবে। আমরা এর জন্য প্রস্তুত। এটি আমাদের প্রতিযোগিতা। গত দুই বছর আমরা ভালো করতে পারিনি। আমাদের প্রথম লক্ষ্য শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকা। চ্যাম্পিয়নস লিগ এলেই আমরা সবসময় রোমাঞ্চিত হই। গত দুই মৌসুমের চেয়ে এবার সবকিছু আলাদা হবে এবং আমরা এটি জিতব।’
‘চ্যাম্পিয়নস লিগ এলেই সবকিছু বদলে যায়’
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্পর্কটা অন্য যেকোনো ক্লাবের চেয়ে আলাদা। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় রিয়ালের অসংখ্য স্মরণীয় রাত, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এবং ঐতিহাসিক সাফল্য রয়েছে। ভিনিসিয়ুসও মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতগুলোতে রিয়াল যেন অন্য রূপ ধারণ করে।
ইন্টারের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে তিনি বলেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ এলেই পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। আর এমন বড় দলের বিপক্ষে খেলতে হলে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইন্টারকে যথেষ্ট কঠিন মনে করছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
পাঁচ ডিফেন্ডারের ইন্টারকে নিয়ে সতর্ক ভিনিসিয়ুস
ইন্টারের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও রক্ষণভাগ- এমনটাই মনে করছেন ভিনিসিয়ুস। বিশেষ করে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলা ইন্টারের রক্ষণব্যবস্থা রিয়ালের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘ইন্টার খুব শক্তিশালী একটি দল। শারীরিকভাবে তারা অনেক শক্তিশালী এবং পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণ করে। সাধারণত এই ধরনের রক্ষণ আমাদের কিছুটা সমস্যায় ফেলে।’ তবে সেই সমস্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি রিয়াল নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নতুন কোচের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রাখছেন ভিনিসিয়ুস। ‘কোচ সবকিছু প্রস্তুত করেছেন,’ বলেন তিনি।
অর্থাৎ ইন্টারের পাঁচ ডিফেন্ডারের জমাট রক্ষণ ভাঙতে কী করতে হবে, সেটি নিয়ে রিয়ালের পরিকল্পনা প্রস্তুত বলেই মনে করছেন তিনি।
ইন্টারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রিয়ালের কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন ভিনিসিয়ুস। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের না থাকা স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। তবে সেটিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না তিনি। ভিনিসিয়ুসের ভাষায়, ‘আমাদের কিছু অনুপস্থিতি আছে, যা আমাদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন করে তুলেছে। কিন্তু আমরা সবাই শক্তভাবে বেরিয়ে আসব।’
আর এমন কঠিন ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে বিশেষ এক বন্ধন তৈরি করার আশাও করছেন রিয়ালের সহ-অধিনায়ক। তার মতে, চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচগুলোতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সমর্থকদের আবেগ ও শক্তি দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়। এবারও সেই দুর্দান্ত সংযোগ তৈরি করতে চান তারা।
১৬তম শিরোপার স্বপ্ন
রিয়াল মাদ্রিদের ইউরোপিয়ান ইতিহাসে ১৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা রয়েছে। সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর গত দুই মৌসুমে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। ফলে এবারের আসর রিয়ালের জন্য শুধু আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান নয়; বরং নিজেদের পুরোনো আধিপত্য ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জও।
ভিনিসিয়ুসের বক্তব্যে সেই আত্মবিশ্বাসই স্পষ্ট। প্রথম ধাপে শীর্ষ আটে জায়গা করে নেওয়া, এরপর নকআউট পর্বে নিজেদের সেরাটা দেওয়া- এই পরিকল্পনাতেই এগোতে চায় রিয়াল। তবে প্রথম পরীক্ষাটিই কঠিন। সামনে ইন্টার মিলান- শারীরিকভাবে শক্তিশালী, পাঁচ ডিফেন্ডারের জমাট রক্ষণে অভ্যস্ত একটি দল।
তারপরও ভিনিসিয়ুসের কণ্ঠে ভয় নয়, বরং প্রত্যয়ের সুর। গত দুই মৌসুমের ব্যর্থতা ভুলে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট নিজেদের করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রিয়ালের সহ-অধিনায়ক। এখন সেই ঘোষণাকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়ার পালা ভিনিসিয়ুসদের।
আইএইচএস/