<p><strong>সন্দীপ সরকার, কলকাতা: </strong>দিনটি ছিল সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণের। যে অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ঝটিকা সফরে কলকাতায় উড়ে এসেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার আশিস নেহরা। আর সেদিনই কি না বেনজির বিতর্ক তৈরি হল। যার একদিকে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি। অন্য দিকে একশো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরাশিস লাহিড়ী!</p>
<p>ঘটনা হচ্ছে, বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচের পদে বিবেচিত না হওয়ায় কোচ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সৌরাশিস। তাঁর করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত শুরু করে সিএবি। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে সৌরাশিসের বিরুদ্ধে। সিএবি-র ওম্বাডসম্যান তথা এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য সৌরাশিসকে ডেকে পাঠান। প্রাক্তন অফস্পিনার আইনজীবী মারফত জবাবও দেন। বেশ কয়েকদিন শুনানি চলে।</p>
<p>৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুরে সিএবি বিবৃতি জারি করে জানায় যে, সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সৌরাশিস। বিবৃতিতে লেখা হয়, 'সিএবি-র নির্বাচকদের কমিটি ও কোচ বাছাইয়ের পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই সৌরাশিসের। সিএবির ওম্বাডসম্যানকে সেটা জানিয়েও দিয়েছেন অনূর্ধ্ব ১৯ দলের প্রাক্তন কোচ। সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সৌরাশিস। বিষয়টি এখানেই মিটে গেল।'</p>
<p>তখনও বোঝা যায়নি যে, কিছুই মেটেনি। বরং অসন্তোষের ছাই চাপা আগুনে ঘৃতাহুতি হল যেন। কারণ, সন্ধ্যায় ফের বোমা ফাটালেন সৌরাশিস। সাফ জানিয়ে দিলেন, সিএবি ভুল তথ্য পরিবেশন করছে।</p>
<p>সৌরাশিস এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, 'প্রথমত, আমি মাননীয় ওম্বাডসম্যানের কাছে কোনও অভিযোগই তো জানাইনি। তাহলে তা প্রত্যাহারের প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে! সিএবি যে বিবৃতি জারি করেছে তা ঠিক নয়। প্রত্যাহার করার যে কথা জানিয়েছে সিএবি, তা ভুল। সিএবি-র কাছে আবেদন করব, যেন সংশোধন করে সঠিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।'</p>
<p>পরে সৌরাশিস আইনজীবী মারফত পাল্টা একটি বিবৃতিও দেন। সেখানে লেখা হয়েছে, 'সৌরাশিস লাহিড়ী সিএবি ওম্বাডসম্যানের সামনে যাবতীয় তথ্য পেশ করেছেন। তাতে সন্তুষ্ট হয়ে এক সদস্যের কমিটির প্রধান তথা সিএবি-র ওম্বাডসম্যান, প্রাক্তন বিচারপতি মাননীয় জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছেন। ২ সেপ্টেম্বরের একটি মিনিটসে সেটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে বিচারপতি ভট্টাচার্য কোনও অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখই করেননি।' সেই মিনিটসের প্রতিলিপি রয়েছে এবিপি লাইভ বাংলার হাতে।</p>
<p>সৌরাশিসের বিবৃতিতে এ-ও লেখা হয়েছে যে, 'বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ছিলেন এক সদস্যের কমিটির প্রধান, তিনি সিএবি ওম্বাডসম্যান হিসাবে ছিলেন না। সেটা মিনিটসে লিপিবদ্ধও রয়েছে। সিএবি-র বিবৃতি তাই ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করছে। অবিলম্বে তা সংশোধন করা হোক।'</p>
<p>আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সৌরাশিস। সেটা নিয়েও কেউ কেউ বলছিলেন, মিটমাট হয়ে গিয়েছে বলেই কি সিএবি-র অনুষ্ঠানে ছিলেন সৌরাশিস? প্রশ্ন শুনে বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার বললেন, 'বেঙ্গল টি-২০ লিগে মহিলাদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স। সেই দলের মেন্টর আমি। পুরস্কার নেওয়ার জন্যই গিয়েছিলাম। এর অন্য ব্যাখ্যা খোঁজা অর্থহীন।'</p>
<p><strong>আরও পড়ুন: <a title="দলীপ ট্রফির ফাইনালে বিধ্বংসী ঈশান, ডাবল সেঞ্চুরি করে ভাঙলেন যশস্বীর রেকর্ড" href="https://bengali.abplive.com/sports/cricket/ishan-kishan-blistering-double-century-in-2026-duleep-trophy-final-east-zone-vs-south-zone-broke-yashasvi-jaiswal-most-runs-record-1191973" target="_self">দলীপ ট্রফির ফাইনালে বিধ্বংসী ঈশান, ডাবল সেঞ্চুরি করে ভাঙলেন যশস্বীর রেকর্ড</a></strong></p>
<p>সিএবি সোমবারের বিবৃতিতে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে ওঠা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওম্বাডসম্যান খারিজ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। যদিও সৌরাশিস-সিএবি নতুন সংঘাতের আবহে সেসব এখন পিছনের সারিতে।</p>
<p>[yt]https://www.youtube.com/watch?v=PKwLsAu-z10[/yt]</p>