ভুল খাবার, দূষিত পানি বা পেটের সংক্রমণের কারণে হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া, পেটব্যথা কিংবা হজমের নানা সমস্যা। পেটের সমস্যা কিছুটা কমতে শুরু করলেই অনেকেই আবার স্বাভাবিক খাবারে ফিরে যান।
কিন্তু এই সময়েই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার। দুর্বল পেটের ওপর ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা ভারী খাবারের চাপ পড়লে সমস্যা আবারও বাড়তে পারে।
পেট খারাপ থেকে ধীরে ধীরে সেরে ওঠার সময়ে এমন খাবার বেছে নেওয়া ভালো, যা সহজে হজম হয় এবং শরীরে প্রয়োজনীয় পানি ও শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি সহজ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
সিদ্ধ আপেল বা নাশপাতি
পেটের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সময়ে কাঁচা ফলের বদলে আপেল বা নাশপাতি হালকা করে সিদ্ধ করে খেতে পারেন। এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার বা পেকটিন হজমপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। আপেল বা নাশপাতি ছোট ছোট টুকরো করে পানিতে দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নরম করে নিন। এটি অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। ততবে ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পেটের সমস্যা গুরুতর হলে নিজের মতো করে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
টক দই বা ঘোল
পেটের স্বাস্থ্যের জন্য দই বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার। এতে থাকা কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। পেটের সমস্যা কমে আসার পর অল্প পরিমাণে টক দই বা ঘোল খাওয়া যেতে পারে।
তবে সবার শরীর একভাবে দুগ্ধজাত খাবার সহ্য হয় না।অতিরিক্ত চিনি বা মসলা ছাড়া সাধারণ দই বেছে নেওয়াই ভালো। কারো ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে দই বা ঘোল খাওয়ার পর অস্বস্তি বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরও পড়ুন
সাদা মাখন নাকি হলুদ মাখন, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?
ভাতের মাড় বা পাতলা রাইস স্যুপ
খেতে একদম ইচ্ছা না করলে ভাতের মাড় বা পাতলা রাইস স্যুপ হতে পারে সহজ খেতে পারেন। এটি হালকা এবং তুলনামূলক সহজপাচ্য। চাইলে অল্প লবণ দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে ক্ষুধা ফিরতে শুরু করলে পাতলা ভাত, নরম ডাল বা সিদ্ধ আলুও যোগ করা যায়।
আরও পড়ুন
কালো তিল খেলে শরীরে কী হয়, জানলে আজই খাবেন
পেট খারাপের সময় গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে পানিশূন্যতা হতে না দেওয়া। বিশেষ করে ডায়রিয়া হলে পর্যাপ্ত তরল ও প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস গ্রহণ করা জরুরি। বারবার বমি, রক্তপাত, তীব্র দুর্বলতা বা দীর্ঘ সময় ধরে ডায়রিয়া চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ওয়েব এমডি, এনডিটিভি
এসএকেওয়াই