প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন এবং জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ কারণে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ‘রিস্কোপিং, রিডিজাইনিং ও রিফোকাসিং’ করা জরুরি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও এ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বয়সভেদে শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও লক্ষ্য ভিন্ন। ৪ থেকে ১০ বছর, ১০ থেকে ১৪ বছর এবং ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের শিক্ষার প্রয়োজন এক নয়। তাই প্রত্যেক বয়সী জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা লক্ষ্য ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনা। এ বয়সী ঝরে পড়া শিশুদের দ্রুত মৌলিক শিক্ষা দিয়ে মূলধারার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নিতে ‘এক্সেলারেটেড ফাউন্ডেশনাল এডুকেশন’ বা ‘দ্রুতগতির ভিত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘এক্সেলারেটেড লার্নিং’ বা ‘দ্রুতগতির শিখন’ কর্মসূচি ডিজাইন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলো প্রজেক্ট’ মূলত ১০ থেকে ১৪ বছর এবং ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য কার্যকর। তবে সব বয়সী শিক্ষার্থীর জন্য একই ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যকর নয়। বয়সভিত্তিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মূল দায়িত্ব ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনলেই হবে না, তাদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার জন্যও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উপানুষ্ঠানিক লার্নিং প্রোগ্রামকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ‘রেমিডিয়াল এডুকেশন’ বা সংশোধনমূলক শিক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
যুবসমাজের জন্য কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফল পাইলট প্রকল্পের পর ‘স্কিল-৪’ কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে ৪০টি জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা খাতে বাজেট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। ভবিষ্যতে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বাড়তি অর্থ শুধু ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় না করে মানসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।
এমএমএ/এসএনআর