সকালে অফিসে যাওয়ার আগে শার্ট, প্যান্ট বা পোশাকটি একটু আয়রন করে নেওয়া অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেলে অনেকেরই প্রশ্ন জাগে এই আয়রন ব অনেকে ইস্ত্রি বলেন, এর পেছনেই কি এতটা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে? বাস্তবে প্রতিদিন অল্প সময় আয়রন করলে বিদ্যুৎ বিল যতটা বাড়ে, তা অনেকের ধারণার চেয়ে কম।
বাড়িতে সাধারণত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ ওয়াটের ইলেকট্রিক আয়রন বা ইস্ত্রি দেখা যায়। ধরা যাক, একটি ১ হাজার ওয়াটের আয়রন প্রতিদিন ১০ মিনিট করে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩০ দিনে মোট ব্যবহারের সময় দাঁড়ায় ৩০০ মিনিট বা ৫ ঘণ্টা। হিসাব অনুযায়ী, ১ হাজার ওয়াটের যন্ত্র ৫ ঘণ্টা চললে বিদ্যুৎ খরচ হবে প্রায় ৫ ইউনিট।
অর্থাৎ প্রতিদিন ১০ মিনিট ইস্ত্রি করলে মাসে প্রায় ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তবে এটি সর্বোচ্চ আনুমানিক হিসাব। কারণ আধুনিক আয়রনে থার্মোস্ট্যাট থাকে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছে গেলে হিটিং এলিমেন্ট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আয়রন সবসময় তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ টানে না। বাস্তব খরচ তাই মডেল, তাপমাত্রা এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কিছুটা কম হতে পারে।
আরও পড়ুন
এসির চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় ঘরের যেসব গ্যাজেট
স্টিম আয়রনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেমন ১ হাজার ৫০০ ওয়াটের একটি স্টিম আয়রন একইভাবে প্রতিদিন ১০ মিনিট ব্যবহার করলে মাসে তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ৭ দশমিক ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তবে এখানেও থার্মোস্ট্যাটের কারণে প্রকৃত খরচ কম-বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশে এই ইউনিটের জন্য ঠিক কত টাকা দিতে হবে, তা নির্ভর করবে আপনার বাসার মোট মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর। কারণ আবাসিক বিদ্যুতের বিল স্ল্যাবভিত্তিক হওয়ায় সব পরিবারের জন্য প্রতি ইউনিটের কার্যকর দাম এক নয়। তাই শুধু আয়রনের জন্য নির্দিষ্ট একটি টাকা ধরে নেওয়ার বদলে নিজের মাসিক মোট ইউনিটের স্ল্যাব অনুযায়ী হিসাব করাই বেশি নির্ভুল।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার প্রতিদিন ১০ মিনিট আয়রন ব্যবহার করাই সাধারণত বড় বিদ্যুৎ বিলের প্রধান কারণ নয়। বাসায় দীর্ঘ সময় চলা এসি, পানি গরম করার হিটার, ইলেকট্রিক ওভেন, গিজার কিংবা অতিরিক্ত সময় চলা অন্যান্য উচ্চক্ষমতার যন্ত্র তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে।
আয়রনের খরচ আরও কমাতে চাইলে কয়েকটি অভ্যাস কাজে লাগানো যায়। প্রতিদিন অল্প অল্প করে আয়রন করার বদলে সপ্তাহে কয়েক দিনের কাপড় একসঙ্গে আয়রন করা যেতে পারে। তবে শুধু একসঙ্গে বেশি কাপড় আয়রন করলেই ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এমন নির্দিষ্ট দাবি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং বারবার আয়রন গরম করার প্রয়োজন কমানোই মূল সুবিধা।
আরও পড়ুন
বারবার লোডশেডিং, তবু বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়রন করার সময় সেটি অপ্রয়োজনে চালু রেখে দেওয়া উচিত নয়। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত তাপমাত্রা নির্বাচন করলে পোশাকও সুরক্ষিত থাকে, বিদ্যুতের অপচয়ও কমে। কাজ শেষ হলে অবশ্যই প্লাগ খুলে রাখা উচিত।
তাই প্রতিদিন ১০ মিনিট পোশাক আয়রন করার অভ্যাস নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আসল জায়গা খুঁজতে হলে বরং বাড়ির কোন যন্ত্র কতক্ষণ চলছে এবং তার ক্ষমতা কত ওয়াট সেদিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
কেএসকে