বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, গত ৫৫ বছর ধরে যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের প্রত্যেকেই জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। তারাও মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে।
তিনি বলেন, দলের কথা আমি বলছি না। যারা গত ৫৫ বছর ধরে আমাদের দেশকে শাসন করেছেন, দেশ পরিচালনা করেছেন, সবাই সেম। প্রত্যেকই জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় মানুষ ‘ব্র্যান্ড ইউনূস’ ধারণা থেকে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় জনগণ ভেবেছিল ড. ইউনূস সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত, তিনি ক্ষমতায় এলে দেশে অনেক কিছু হবে, অনেক উন্নতি হবে, গোটা বিশ্ব আমাদের দেশে ইনভেস্ট করতে চলে আসবে। কিন্তু না, জনগণ তেমন কিছু দেখতে পায়নি। ইউনূস জমানায় সামান্যতম ইনভেস্টমেন্টও হয়নি।
আরও পড়ুন
আনু মুহাম্মদ / সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও কাজে দেখি ‘সবার পরে বাংলাদেশ’
তিনি বলেন, ড. ইউনূস (জাতীয় নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে) ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন, যে চুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষেত্রে ভয়াবহ। (জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে) ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিনি যে চুক্তি করেছেন, সেটি আমাদের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সঙ্গে পরিপন্থি।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সিপিবির এই নেতা বলেন, জনগণ আশা করেছিল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। কিন্তু বাস্তবে তারা আগের সরকারের পথেই হাঁটছে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করবেন। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? ইউনূস গেছে যে পথে, তারাও যাচ্ছে সে পথে।
এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও বে-টার্মিনালসহ দেশের অন্য বন্দরগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেন।
মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হারুন অর রশীদ, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার, গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশাহিদা রিতু, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
ইএইচটি/এমকেআর