মৃত্যুর পরও যেন প্রকৃতির অংশ হয়ে থাকা যায়, সেই ভাবনা থেকেই ভিন্ন ধরনের বিদায়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক নারী। মাশরুম ও শণের আঁশ দিয়ে তৈরি কফিনে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের কফিনে কাউকে সমাহিত করার ঘটনা এটাই প্রথম।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ক্যারোলিন নামে ওই নারীকে নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনসের স্প্রিংউড সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়। গোপনীয়তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭০-এর কোঠায়। শেষ বিদায়ে তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
ক্যারোলিনের জন্য ব্যবহৃত কফিনটি তৈরি করেছে নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান লুপ বায়োটেক। মাশরুমের শিকড়ের মতো জালিকা বা মাইসেলিয়াম এবং শণগাছের আঁশ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের কফিন তৈরিতে প্রচলিত কাঠের কফিনের তুলনায় অনেক কম সময় লাগে। নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার একটি কক্ষে ছাঁচের মধ্যে কফিনটি তৈরি করা হয়। পুরোপুরি তৈরি হতে সময় লাগে মাত্র এক সপ্তাহ।
View this post on Instagram
A post shared by Loop Biotech (@loopbiotech)
প্রতিটি মাশরুমের কফিনের ওজন প্রায় ৩০ কেজি। মাটিতে পুঁতে দেওয়ার পর প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যায় কফিনটি। একই সময়ে মরদেহও ধীরে ধীরে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এ প্রক্রিয়াটি অনেকটা কম্পোস্ট তৈরির মতো।
অন্যদিকে, প্রচলিত কাঠের কফিন মাটিতে পুরোপুরি মিশে যেতে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে। সেই তুলনায় মাশরুমের তৈরি কফিন অনেক দ্রুত মাটিতে মিশে গিয়ে মাটিকে পুষ্টিসমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করে।
ক্যারোলিনের স্বামী ডোনাল্ড বলেন, প্রকৃতিকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার যে মূল্যবোধ তার স্ত্রীর ছিল, এ কফিন বেছে নেওয়ার বিষয়টি তার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। তিনি সবসময় অন্যদের সাহায্য করতেন। মৃত্যুর পরও প্রকৃতিকে কিছু দেওয়ার মাধ্যমে অন্যদের জন্য কিছু করতে পারছেন, এটি তার স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে খুবই মানানসই।
অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারোলিনই প্রথম ব্যক্তি, যাকে এ ধরনের কফিনে সমাহিত করা হয়েছে। তবে, লুপ বায়োটেকের প্রতিষ্ঠাতা বব হেনড্রিক্স জানিয়েছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে হাজারো মানুষ মাশরুমের তৈরি কফিনে সমাহিত হয়েছেন।
হেনড্রিক্স বলেন, পাঁচ বছর আগে তিনি যখন এই কফিন তৈরি শুরু করেন, তখন অস্ট্রেলিয়া থেকে অনেক আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। তবে, সে সময় বিদেশে কফিন পাঠানো কিছুটা কঠিন ছিল বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি পরিবেশবান্ধবভাবে প্রিয়জনকে বিদায় জানানোর বিষয়ে মানুষের আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করেন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানী হান্না গোল্ড।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানএমআরএইস/