রাজধানীর কদমতলীর শনিরআখড়ায় ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনায় অস্ত্র আইনের মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক আসামির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এসময় নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে মঞ্জুরুল আদালতকে বলেন, ‘আমি গুলি করি নাই। গুলি করছে জসীম। আমার কাছে কিছু পায় নাই। স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস ছবুর জাগো নিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলীর দক্ষিণ দনিয়া-শনিরআখড়া এলাকায় একটি ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী মো. আসলাম খানকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মঞ্জুরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুলিশের দাবি, মঞ্জুরুলের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ আসলাম খানকে পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে আসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঞ্জুরুলকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই মিঠুন মণ্ডল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
নির্ধারিত দিনে মঞ্জুরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা যায়। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারক মঞ্জুরুলের কাছে তার কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। তখন তিনি দাবি করেন, তিনি ব্যবসায়ীকে গুলি করেননি। তার সঙ্গে জসীম নামে এক ব্যক্তির বিরোধ রয়েছে এবং ওই ব্যক্তিই গুলি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মঞ্জুরুল আদালতকে বলেন, তিনি ও জসীম মহাখালী এলাকায় থাকেন। অনেক আগে মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। জসীম তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পর তিনি এর দাম বাবদ ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং এলাকার লোকজনও বিষয়টি জানেন বলে দাবি করেন তিনি।
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মঞ্জুরুল আরও বলেন, জসীম তাকে স্ত্রী ও মেয়ের ছবি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে সিএনজিতে করে মহাখালী থেকে নিয়ে আসেন। তার দাবি, জসীম তাকে হুমকি দেন—তার সঙ্গে না গেলে স্ত্রী ও মেয়ের ক্ষতি করা হবে, এমনকি তাদের হত্যা করা হতে পারে।
আদালতে মঞ্জুরুল বলেন, আমি গুলি করি নাই। গুলি করছে জসীম। আমার কাছে কিছু পায় নাই। স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে।
রিমান্ড না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাথায় আঘাতের কারণে মাথা ঘুরছে এবং ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছেন না। রিমান্ডে নিলে তার মৃত্যু হতে পারে বলেও আদালতের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মঞ্জুরুল বলেন, যা সত্য, তাই বলবো। এখন রিমান্ডে দিলে মারাও যেতে পারি। আমার মাথা কাজ করছে না। মানসিক চাপে আছি। রিমান্ড দিয়েন না।
তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত মঞ্জুরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এমডিএএ/এমকেআর