ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র ও বিনোদনশিল্পের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে। দুই দেশ প্রায় ১১৬ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। ‘লুমিয়ের পার্টনারশিপ’ নামের এই উদ্যোগে দুই দেশই ৫০ কোটি ইউরো করে বিনিয়োগ করবে।
২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই তহবিলের অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।
সোমবার ফ্রান্সের সাঁ-পল-দ্য-ভঁস শহরে অনুষ্ঠিত লুমিয়ের সামিটে উদ্যোগটির ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
ভ্যারাইটি জানায়, এই অংশীদারিত্বের আওতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এমন চলচ্চিত্র ও স্ক্রিন ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পারবে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজকদের স্বপ্ন পূরণ করবে এই উদ্যোগ।
ফ্রান্সের ৫০ কোটি ইউরোর অর্থায়ন যাবে দেশটির সরকারি বিনিয়োগ ব্যাংক বিপিফ্রান্সের মাধ্যমে। এই অর্থ কোম্পানিতে সরাসরি বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়ন, সৃজনশীল উদ্ভাবন এবং ব্যাংক ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সমপরিমাণ ৫০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ফলে দুই দেশের যৌথ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০০ কোটি ইউরো বা প্রায় ১১৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা।
উদ্যোগটির বিনিয়োগে কপিরাইট সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং মানবসৃষ্ট সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক প্রযোজনাগুলো ফ্রান্সে ৬২ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ এই অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুমিয়ের সামিটে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈশ্বিক স্ক্রিন ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই সম্মেলন থেকেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে।
এলআইএ