ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কাছে গ্যাসের সংকট যেন নতুন দুর্ভোগের নাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে আয়। দিনে ১২০০ টাকা জমা দিয়ে হাতে ২০০ টাকাও রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে অনেক চালকের।
এমনই দুর্ভোগে পড়েছেন ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে ঢাকায় বসবাস করা চালক অহিদ আলী। সংসারের ঘানি টানতে টানতে সিএনজি চালানোর পেশায় আসা এই চালক এখন গ্যাসের সংকটে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কোনোরকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
অহিদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, মাসে ১৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিতে হয়। ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। ছেলেটা আয় করা শিখছে এজন্য বেঁচে আছি। তিন-চার ঘণ্টা গ্যাস নিতে বসে থাকা লাগে। লাইনে দাঁড়িয়ে ৭০-৮০ টাকার বেশি গ্যাস নিতে পারি না। গ্যাসের চাপ একেবারেই কম।
তিনি বলেন, সংসারের ঘানি টানতে টানতে এই পর্যন্ত এসেছি, এখনো টানছি। কি আর করবো; আয় কমে যাওয়ায় এখন সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে। কোনো রকম টিকে আছি।
অনেক চালকের দিনে ১২০০ টাকা জমা দিয়ে হাতে ২০০ টাকাও রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে সিএনজি স্টেশনের সামনে এসব কথা বলছিলেন তিনি।
শুধু আহাদ আলী নয়, এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন রাজধানীর অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। সেই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্টেশনগুলোর সামনে সিএনজির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
শাহবাগ এলাকায় আরেক চালক ওসমান বলেন, গ্যাস পাই না, আয় কমে গেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস নিতে সিরিয়ালে বসে থাকতে হয়। এভাবে সংসার চালানো কষ্টকর।
মতিন নামের আরেক চালক বলেন, কবে গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে জানি না। এভাবে তো আর সংসার চালাতে পারছি না। সরকার আমাগো কষ্ট বুঝে না। আমরা এখন অসহায় হয়ে গেছি।
এনএস/এমআইএইচএস/