নিজেদের দাবিদাওয়া আদায়ে এক জোট হয়েছে দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো। এক পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান-আবাহনীসহ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ১৩ ক্লাবের ১০টি। মঙ্গলবার এই ক্লাবগুলো যৌথ চিঠি দিয়েছে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে।
সেই চিঠিতে সই করা অন্য ৮ ক্লাব হচ্ছে-ব্রাদার্স ইউনিয়ন, রহমতগঞ্জ এমএফএস, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, পিডব্লিউডি স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব, ফকিরেরপুর ইয়ংমেন্স ক্লাব, সিটি ক্লাব এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। চিঠিতে সই করেনি প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসানের ক্লাব বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসি ও পুলিশ এফসি।
ক্লাবগুলোর কোনো প্রতিনিধি নেই লিগ কমিটিতে। তাই সব সময় সিদ্ধান্ত হয় বাফুফের সুবিধামতো একতরফা। ক্লাবগুলো এসবের স্থায়ী সমাধানে চেয়েও পাচ্ছে না। তাই তো লিগ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগে ক্লাবগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে।
ক্লাবগুলোর দাবি আদায়ের এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে ৬ বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ও একবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। ক্লাবগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বর্তমান লিগ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি করলেও এই চিঠিতে সেই দাবি নেই। বরং বিদ্যমান কমিটি ঠিক রেখে ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি নেওয়ার দাবি তুলেছে তারা।
ক্লাবগুলোর কথা-জাতীয় দলের ম্যাচ ও ক্যাম্পের কারণে ঘরোয়া ফুটবলে ঘনঘন বিরতি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাতে ক্লাবগুলো বড় ধরনের আর্থিক সমস্যায় পড়বে। যে কারণে তারা বাফুফের কাছে ৬ দফা পেশ করেছে। এক নজরে দেখা যাক সেই দফগুলোতে কী চাইছে ক্লাবগুলো।
১. ক্লাবগুলো বাফুফেকে অনুরোধ করেছে যদি জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টের কারণে ঘরোয়া ফুটবল বন্ধ থাকে, তখন ক্লাবগুলোর যে বিশাল ব্যয় হবে বাফুফে তা কীভাবে ব্যবস্থা করবে তা ক্লাবগুলোকে আগেই অবহিত করতে হবে।
২. দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকলে ক্লাবগুলো কেবল আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস, ম্যাচের ছন্দ এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়। তাই জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের নিজ নিজ ক্লাবে প্রত্যাবর্তন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপের খেলাগুলো বিরতিহীনভাবে আয়োজনের দাবি করেছে ক্লাবগুলো।
৩. ক্লাবগুলোর বড় এক সমস্যা ঢাকা বাইরে গিয়ে ম্যাচ খেলা। দেশের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম অলস পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক খেলা ছাড়া এখানে কিছু আয়োজন হয় না। তাই ক্লাবগুলোর দাবি ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোর সাথে বাংলাদেশ ফুটবল লীগ ও ফেডারেশন কাপের খেলাসমূহ ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হবে।
৪. ক্লাবগুলো দাবি করে আসছিল প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে সব ক্লাবের প্রতিনিধি থাকতে হবে। তবে বাফুফে তাদের সেই দাবি উপেক্ষা করেই আসছে। ক্লাবগুলো কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি চাচ্ছে যাতে যে কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্লাবগুলো তাদের মতামত দিতে পারে। তাতে লিগ কমিটির সার্বিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং গতিশীল হবে বলেও মনে করছে ক্লাবগুলো।
৫. যে কোনো ভেন্যুতে খেলার সময় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সমন্বয় যেন নিবিড় হয় সেই দাবিও করেছে ক্লাবগুলো। হঠাৎ করে যে কোনো কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ স্থগিতের ঘটনা না ঘটে তা দৃঢ়ভাবে মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছে ক্লাবগুলো।
৬. আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আর্থিক নিশ্চয়তার জন্য পার্টিসিপেশন মানি প্রদান এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের জন্য প্রাইজমানি প্রদানের দাবিও জানিয়েছে ক্লাবগুলো।
কয়েক দফা পিছিয়ে বাফুফে ঘরোয়া ফুটবল শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছে ১৮ সেপ্টেম্বর। লিগ শুরুর চার দিন পর শুরু হবে ফেডারেশন কাপ। তবে অবস্থাদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে তাতে নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শেষেই মাঠে নামতে চায় ক্লাবগুলো।
বাংলাদেশ আসিয়ান কাপ খেলে ইন্দোনেশিয়া থেকে ফিরবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। তারপর শুরু হয়ে যাবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি। ক্লাবগুলো ধরেই নিয়েছে জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে ঘরোয়া ফুটবলে ব্যাঘাত ঘটবে। আর্থিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে ক্লাবগুলো সেটারই প্রতিকার চাইছে বাফুফের কাছে।
আরআই/এমএমআর