ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের দুই কট্টরপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাসহ নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এমন প্রেক্ষাপটেই ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুললেন এই দুই ইসরায়েলি মন্ত্রী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দেশটিতে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে ব্রিটিশ সরকার।
স্মোট্রিচ বলেন, ইসরায়েলের ভূমিতে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং তার দেশ কোনো ‘ইহুদি-বিদ্বেষী সরকারের’ চাপ মেনে নেবে না।
অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ফকল্যান্ড—যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত—দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্য শুধু দ্বীপপুঞ্জ দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি, সেখানে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সম্পদও ব্যবহার করছে। বেন গভির বলেন, যতদিন এই ‘দখলদারিত্ব’ চলবে, ততদিন যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলছে। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর উভয় দেশই সার্বভৌমত্ব দাবি করে। তবে সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মানুষের অধিকাংশই ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মিডল ইস্ট আই। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানান। দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও খননের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি দুই মন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাজ্য ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক নতুন নীতিমালা ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেল আবিব। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ইসরায়েলও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।