শুরুতে সবই ছিল স্বাভাবিক। আকাশপথে ছুটছিল প্লেন, যাত্রীরা ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের মতো। হঠাৎ বদলে গেল দৃশ্য। শান্ত কেবিনে শুরু হলো চিৎকার, গালিগালাজ। এরপর হাতাহাতি, হামলা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাল যে প্লেনের এক যাত্রীকে সিটের সঙ্গে জিপ টাই ও ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে রাখতে হলো।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৬১৮-এ ঘটে এ উদ্ভট ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কের পথে ছিল প্লেনটি।
আরও পড়ুন
ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো লেখকের ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা!
উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রথম শ্রেণিতে বসা ৬৭ বছর বয়সী আর্থার লেইন লুন্ডিন হঠাৎই শুরু করেন এমন এক কাণ্ড, যা শেষ পর্যন্ত প্লেনটিকে নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে অন্য একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আচমকা পাশের এক যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই যাত্রীর ওপর হামলাও করে বসেন তিনি। ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে তাদেরও বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী বলে কটাক্ষ করেন লুন্ডিন।
ফ্লাইটের যাত্রী হুয়ান মেহিয়া সিবিএস নিউজকে বলেন, পরিস্থিতি মুহূর্তেই বদলে যায়। শান্ত পরিবেশ হঠাৎ চিৎকার ও বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। তিনি ঘুরে দেখতে পান, পাশের আসনেই থাকা এক যাত্রীর গলায় হাত দিয়ে আক্রমণ করছেন লুন্ডিন।
আরও পড়ুন
লেকের মাঝখানে হঠাৎ মিলল ‘রহস্যময়’ দ্বীপ, কয়েকদিন পরেই উধাও!
পরে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রুদের সঙ্গে কয়েকজন যাত্রীও এগিয়ে আসেন। অবসরপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা হুয়ান মেহিয়া এবং আরেক যাত্রী রিচার্ড ওলেনিক লুন্ডিনকে থামাতে চেষ্টা করেন। এসময় লুন্ডিন মেহিয়ার হাতে কামড় দেন। এতে চামড়া না কাটলেও তার হাতে দাঁতের দাগ পড়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত লুন্ডিনকে থামাতে আর কোনো উপায় না পেয়ে তার দুই হাত জিপ টাই দিয়ে বাঁধা হয়। ফ্লাইটের শেষ ১৫ মিনিট তাকে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে প্লেনটি নির্ধারিত গন্তব্য নিউয়ার্কে না গিয়ে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়েছে।
প্লেন অবতরণের পর মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথোরিটি পুলিশ লুন্ডিনকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলা ও বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়। পরে, ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় এফবিআই। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন প্রশাসন।
আরও পড়ুন
হাসপাতাল থেকে সোনার গহনা উধাও, সিসিটিভিতে মিলল ‘আজব চোর’
এদিকে, প্লেনটিতে বিশৃঙ্খলার প্রভাব শুধু ওই যাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঘটনার পর লুন্ডিনের চাকরিও চলে গেছে বলে জানা গেছে। তিনি অ্যারিজোনাভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান লং রিয়েলটির সঙ্গে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ঘটনার কথা জানার পর তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টএমআরএইস/কেএএ/