আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান কেক কাটেননি বলে জানিয়েছেন তার বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনীন নাহার। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
নাজনীন নাহার বলেন, যেদিন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে কেক কাটার অভিযোগ উঠেছে, সেদিন তার কোনো মামলার শুনানি ছিল না। এমনকি তাকে ওইদিন ট্রাইব্যুনালেও হাজির করা হয়নি।
তিনি বলেন, কেক কাটা নিয়ে আমি বলেছি, সুবিচার চাই। এটা নিয়ে যে একটা মিডিয়া ট্রায়াল হলো, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হলো, আমি এর সুবিচার চাই।
জিয়াউল আহসান হাজতখানায় কেক কেটেছেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, না, না। ওইদিন উনি কোর্টে আসেননি। ওইদিন ওনার মামলাই ছিল না। ওইদিন ওনাকে আনা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমি বলেছি, এভাবে মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আমার সঙ্গে একমত। প্রসিকিউটরও এগুলো বলেছেন। মিডিয়া ট্রায়াল অন্যায়। এগুলো করা উচিত না।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে দুজন সাক্ষীকে হাজির করা হয়। তারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয় উপস্থাপন করেন। পরে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী এবং তার বোন বেশ কিছু অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি হাজতখানায় কেক কেটেছেন।
প্রসিকিউটর বলেন, বিশেষ করে চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে তারা এ অভিযোগটি আনেন। আরও কিছু অভিযোগ আনার পর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে আমি বলেছি, এগুলো সম্পূর্ণ অসত্য, যার কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউটরের কাছে কোনো অভিযোগ গেলে তা তদন্ত করার এখতিয়ার তার রয়েছে। তিনি কোনো আসামির নাম উল্লেখ করে বলেননি যে তিনি কেক কেটেছেন।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের নোটিশে এসেছে যে এখানে কেক কাটা হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা আপনাদের মাধ্যমে এ কথাটা শুনেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের আমরা নোটিশে এনেছি।
এফএইচ/এমকেআর