সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার দ্বিতীয় দিনে ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক মোট ৩২৭ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। একই দিনে আরও প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক ৩৩১ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আমানতের অর্থ তুলতে না পারায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। অর্থ ফেরতের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে তারা বিক্ষোভ ও আন্দোলনও করেছেন।
ব্যাংকটির এক কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহক ১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আবেদনের তুলনায় তুলনামূলক কম অর্থ উত্তোলন করেছেন গ্রাহকেরা। এর পেছনে ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থার বিষয়টি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ঘোষণা দেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন।
আরও পড়ুন
আজ থেকে আমানতের মূল টাকা ফেরত পাবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা
গভর্নরের ওই ঘোষণার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু করে। পরে পর্যায়ক্রমে আবেদন যাচাই করে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় ব্যাংকটি।
গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম সহজ করতে গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলেন, যেসব গ্রাহক টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন, তাদের সঙ্গে ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে অর্থ নেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদন করলেও সবাই টাকা তুলতে শাখায় আসেননি।
ইএআর/এমআইএইচএস/