শিশুর পেটের সমস্যা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না? কখনও পেট ব্যথা, কখনও বমি, আবার কখনও ডায়রিয়া—এমন সমস্যা বারবার হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে।
শিশুর পেট খারাপের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সংক্রমণ, খাবারে অসহিষ্ণুতা কিংবা হজমের সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে। তাই বারবার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে হালকা অস্বস্তির সময়ে পর্যাপ্ত তরল খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে কোন পানীয় দেওয়া যেতে পারে?
১. আদা-লেবুর জল
আদা দীর্ঘদিন ধরেই হজমের অস্বস্তি কমাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে আদা বা লেবুর পরিমাণ খুব সামান্য রাখা উচিত। গরম পানিতে অল্প আদা দিয়ে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে পারেন। বয়স উপযোগী হলে সামান্য লেবুর রস মেশানো যেতে পারে।
তবে শিশুর ডায়রিয়া বা বমি হলে আদা-লেবুর জল ওআরএসের বিকল্প নয়।
২. ডাবের জল
ডাবের জল শরীরে তরল ও কিছু ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করতে পারে। তাই বমি বা পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী অল্প অল্প করে ডাবের জল দেওয়া যেতে পারে।
তবে ডায়রিয়ায় শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ ও পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে ওআরএসই বেশি উপযোগী। ডাবের জলকে ওআরএসের পরিবর্তে ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩. শসা-লেবুর পানীয়
শসায় পানির পরিমাণ বেশি। অল্প শসা ও পানি দিয়ে পাতলা পানীয় তৈরি করা যেতে পারে। শিশুর বয়স অনুযায়ী সামান্য লেবুর রস যোগ করা যায়।
তবে পেট খারাপের সময়ে কাঁচা শসা, বেশি লেবু বা মশলা দিয়ে তৈরি পানীয় সব শিশুর জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই শিশুর বয়স ও উপসর্গ বিবেচনা করে দিতে হবে।
শিশুর ডায়রিয়া বা বমি হলে শুধু ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। ওআরএস, বুকের দুধ এবং বয়স উপযোগী খাবার চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বারবার বমি, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, প্রচণ্ড পেটব্যথা, জ্বর, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আর ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বা বমি বারবার হলে বাড়িতে পানীয় দিয়ে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।