
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম। নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিরও নতুন শুরু। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নায়ক সেই পুরোনো একজনই। আর্লিং হলান্ড।
নতুন মৌসুমে সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ অধ্যায়ের পর তাঁর সামনে কাজটা কঠিনই। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে সেই চাপের ছাপ খুব একটা দেখা গেল না। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে সিটি। আর শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন হলান্ড।
তবে প্রথমার্ধে তাঁকে আটকে রেখেছিলেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। একবার দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে হলান্ডের শক্তিশালী হেড ফিরিয়েছেন । পরে আবারও নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে হতাশ করেছেন জোড়া সেভে। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল না পেলেও সিটি তখনই বুঝিয়ে দিয়েছিল, পোর্তোর দুর্গে ধাক্কা আসছে।
বিরতির পর আর অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হলান্ডের হেড। খুব জোরালো ছিল না শটটি, কিন্তু কস্তাকে ভুল পায়ে ফেলে বল গড়িয়ে গেল নিচের কোণায়। ১-০।
গোল খেয়ে যেন ঘুম ভাঙল পোর্তোর। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে স্বাগতিকেরা। উল্টো সিটির রক্ষণেও দেখা দেয় অস্বস্তি। একবার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন। অফসাইড না থাকলে সেটি পোর্তোর পেনাল্টি হতে পারত। পরে তাঁর একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোল হয়নি।
তবু শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব চেষ্টা ব্যর্থ। কারণ রাতটা ছিল হলান্ডের।
যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির ক্রস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেন তিনি। ২-০। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে হলান্ডের গোলও হয়ে গেল ৫৯টি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। যে জায়গায় পৌঁছাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির লেগেছিল অনেক বেশি ম্যাচ, সেখানে হলান্ড ছুটছেন নিজের গতিতে।
সিটির হয়ে এটিই ছিল তাঁর ১৬৭তম গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে গোলের তালিকায় উঠে গেলেন তৃতীয় স্থানে।
ম্যাচ শেষে হলান্ড বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’
আর চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর উপলব্ধি, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’