অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন সংবিধান পরিপন্থি, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কাজী আখতার হামিদ।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কাজী আখতার হামিদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার রিদিতি।
রিটের বিষয়ে আইনজীবী জানান, ২০১৪ সালে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। সুদসহ বর্তমানে ওই ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে নিম্ন আদালতে মামলা হলে সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঋণগ্রহীতার কোন দাবি করার সুযোগ আইনে নেই। এ কারণে অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটে অর্থ ঋণ আদালত ৬ এ অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের বিষয়ে ডায়র করা মামলার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
আইনের ১৮(২) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে উদ্ভূত কোনো বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবেন না। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় ঋণগ্রহীতা লিখিত জবাবে ‘সেট-অফ’ বা পাল্টা দাবি (কাউন্টার ক্লেইম) করতে পারবেন না।
অন্যদিকে ১৮(৩) উপধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে উদ্ভূত বিষয়ে ঋণগ্রহীতা অন্য কোনো আদালতে মামলা করলে সেটি অর্থঋণ আদালতে চলমান মামলার সঙ্গে একত্রে শুনানি করা যাবে না। একই কারণে অর্থঋণ আদালতের মামলাও স্থগিত করা যাবে না।
যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত
রিট সূত্রে জানা যায়, ‘ছায়া নীড় কমপ্লেক্স’-এর পক্ষে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট কর্পোরেট শাখায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রির জন্য আবেদন করেন।
২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট শাখা থেকে ওই প্রকল্পের জন্য ৫০:৫০ ঋণ ও ইক্যুইটি অনুপাতে ১৫ কোটি টাকা সাধারণ গৃহ নির্মাণ (বাণিজ্যিক) ঋণ অনুমোদন করা হয়। ঋণ অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছাকাছি ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।
ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওই মার্কেট চালু করা হয়। এরপর ব্যাংকের কাছে নির্ধারিত জায়গা বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি ও দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নিতে জাকির হোসেন দুই দফা আবেদন করেন।
রিটকারি আইনজীবী জানান,৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল বলে প্রথম আবেদনটি করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর। আর দ্বিতীয় বার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩১ মে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
এরপরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছায়া নীড় কমপ্লেক্স’-এর পক্ষে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট কর্পোরেট শাখা থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋন নেয়। পরে ওই ঋণের সুদসহ সর্বমোট ২৩ কোটি ৬৮ হাজার টাকা দাবি করে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়। বর্তমানে অর্থ ঋণ আদালত-৬ মামলাটি বিচারাধীন। চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক কথা না রাখায় ওই মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে মো. জাকির হোসেনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার রিদিতা।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বৈধতা নিয়ে এ রুল জারি করেন।
এফএইচ/এসএনআর