লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. জসিম উদ্দিন এক চেয়ারেই ২৭ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। টানা দায়িত্বের কারণে ওই কার্যালয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন।
যদিও জসিম বলছেন, সব ঠিক থাকলে চাকরির বাকি সময় কাটিয়ে তিনি এখান থেকেই অবসরে যেতে চান।
এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এক কর্মস্থলে সাধারণত সর্বোচ্চ ৩ বছর থাকার নিয়ম রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিভাগে বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে পরিবর্তন ও নতুন নীতিমালা আনা হয়েছে। এতে লটারির মাধ্যমে পদায়ন ও বদলি করতে দেখা গেছে। যদিও জসিমের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে জন্ম জসিম উদ্দিনের। তিনি ১৯৯৮ সালের ২৬ এপ্রিল গণপূর্ত বিভাগে যোগদান করেন। শুরু থেকেই জসিম লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ে বসেন। এরপর আওয়ামী লীগ-বিএনপির ক্ষমতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের পরও তিনি বহাল রয়েছেন। শহরের মাদাম এলাকায় বহুতল ভবন গড়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্যতার মাধ্যমে বলয় সৃষ্টি করে রেখেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের কার্যালয়ে জসিম উদ্দিন সততার গল্প শোনান প্রতিবেদককে। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে আমি সাদামাটা জীবনযাপন করছি। কখনো কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম করিনি। মা-বাবার দোয়া আর সবার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই এখানেই টানা চাকরি করছি। ৩১ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার কথা। সব ঠিক থাকলে এখান থেকে অবসরে যাব।
স্কুলশিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, সরকারি এক কার্যালয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক মদদে মাফিয়া হয়ে ওঠে। অসাধু ঠিকাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেও ঠিকাদারি কাজের অংশীদার হয়। এভাবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়। এজন্য চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রফেসর রফিকুল আহসান বলেন, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একস্থানে তিন বছরের বেশি কীভাবে থাকেন? দেশে আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই। এ বিষয়ে দায়িত্বশীলরা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতিরোধ করতে পারেন।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সাধারণত নিজ জেলায় চাকরি করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কঠিন, তাই মানবতার খাতিরে তাদের বদলি করা হয় না। বিভাগ চাইলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারেন। এতে আমার করার কিছু নেই।
কাজল কায়েস/এফএ