টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে উল্টো পেছাচ্ছে দেশ। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ছয় মাসে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের হার কমে গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও পরবর্তীসময়ে প্রশাসনে রদবদলের কারণে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যেতে পারে। তবে জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে থাকতে মাঠপর্যায়ে ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় নিবন্ধনের হার কমে গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জন্মের এক বছরের মধ্যে জন্মনিবন্ধনের হার ৬৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশে উঠলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মুর্শিদা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে এখনই নির্দিষ্ট কোনো কারণ চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে গঠিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন
ভুয়া জন্মসনদে ভুগছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৯ হাজার নাগরিক
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এসডিজি এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিআরভিএস আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম-মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করার আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে জন্ম-মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার যথাক্রমে ৬৩ ও ৫৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ হার কমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে জন্মনিবন্ধনে ৬৩ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই জন্মনিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশ হয়েছে
নির্ধারিত আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নির্দেশিকার আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
২০২৪ সালে হার ছিল আরও কম
সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে জন্মনিবন্ধনে ৬৩ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই জন্মনিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশ হয়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে নিবন্ধনের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে সম্প্রতি অর্জিত হারই আবার কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ
চলতি বছরের এপ্রিলে সিআরভিএস সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, জন্মের এক বছরের মধ্যে সারাদেশে জন্মনিবন্ধনের হার ২০২৫ সালে ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো সন্তোষজনক নয়। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। ওই সভায় এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম এবং ৮০ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নিবিড় কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনইএসক্যাপ) ২০১৪ সালে সিআরভিএস বিষয়ক প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালকে ‘সিআরভিএস দশক’ ঘোষণা করা হয়।
তারা আরও জানান, নাগরিক নিবন্ধন এবং তার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রণয়নের জন্য ওই সময়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনাও (রিজিওনাল অ্যাকশন ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সম্মেলনে সিআরভিএস দশকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্জনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে দেখা যায়, কিছু দেশ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশও ওই সময়ে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। এ প্রেক্ষাপটে তৃতীয় সম্মেলনে সিআরভিএস দশককে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়।
ভুয়া নিবন্ধন বন্ধের প্রভাব পড়েছে হারে
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) একটি লক্ষ্য। এই হার কমছে, কারণ আমরা ভুয়া নিবন্ধনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। এই টার্গেট অর্জন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় ভুয়া জন্ম নিবন্ধন করা হয়। ভুয়া নিবন্ধনের কারণে কয়েকজনের চাকরি যাচ্ছে। এ কারণে নিবন্ধনের হার কমে গেছে।’
আরও পড়ুন
পদে পদে ভোগান্তি / টাকা দিলে আগে মেলে জন্মনিবন্ধন সনদ
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জন্ম নিবন্ধনের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে ভুয়া নিবন্ধন বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপও একটি কারণ। বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংখ্যাগতভাবে নিবন্ধনের হার কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।’
নির্বাচনি ব্যস্ততা, কর্মকর্তা বদলিও কারণ হতে পারে
তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে মাঠপ্রশাসনের ব্যস্ততা ও কর্মকর্তা পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা সবসময় একই হারে এগোয় না। কোনো কোনো সময়ে এটি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে জন্মনিবন্ধন ও পরিসংখ্যান বিভাগ এবং এর অঙ্গসংস্থা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ওরিয়েন্টেশন ও সেমিনার করছে।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি বছরের শুরুর দিকে একটি নির্বাচন ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা থাকে। পুরো এই নিবন্ধনের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, ডেপুটি ডিরেক্টরসহ মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন। তাদের একটা বড় অংশের সময় এ সময়ে নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত ছিল। ফলে হয়তো এদিকে অ্যাটেনশনটা একটু কম হয়েছে। যার ফলে এটা কমার একটা কারণ হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়া নতুন সরকার গঠন করার পরে কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। নতুন কর্মকর্তাদের তো টেক আপ করতেও সময় লাগছে। জন্মনিবন্ধনের দায়িত্বে আগে থেকে যারা পদে ছিলেন, তারা বিষয়গুলো বুঝে নিয়েছিলেন। নতুন নতুন কর্মকর্তারা আসলে গতি একটু কমতে পারে।’
আরও পড়ুন
আইনের দুর্বল বাস্তবায়ন শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিতে বড় বাধা
সিআরভিএস নিয়ে কাজ করা সাবেক এ সচিব আরও বলেন, ‘তো এরকমভাবে নির্বাচনের ব্যস্ততা, পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের বদলি- আমার নিজের ধারণা হচ্ছে এসব কারণে বছরের শুরুতে এটার একটু ঘাটতি হয়েছে।’
তবে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ শুরু করেছে বলেও জানান সাবেক এই সচিব। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে বরিশাল বিভাগে এই সেমিনার হয়েছে। সেখানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় নিয়মিতভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়।’
‘টার্গেটকে ভিলেন বানানো ঠিক না’
মাঠপর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, এটা তারা বলতে পারবেন। কারণ তথ্যটা তাদের কাছে আছে। তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে টার্গেটকে এভাবে দোষারোপ করা বা টার্গেটকে ভিলেন বানানো বোধহয় ঠিক না। কারণ টার্গেট না থাকলে আপনি কীভাবে যাবেন?’
তিনি বলেন, ‘যারা বলছেন যে ত্রুটিপূর্ণ নিবন্ধন হচ্ছে, নিঃসন্দেহে এটা গর্হিত কাজ, অপরাধ। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু যদি বলা হয় যে টার্গেটের কারণে এটা করছে, এটা ওইভাবে বলা ঠিক না। কারণ টার্গেট না থাকলে আপনি কীভাবে যাবেন?’
নিবন্ধনের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো। আমাদের জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ কাজটি শুধু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নয়। আমরা সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মনিটরিং করি। মূল কাজটি স্থানীয় সরকারের।- মুর্শিদা শারমিন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব
তার ব্যাখ্যা, ‘টার্গেটটা কোথা থেকে আসছে? টার্গেটটা আসছে এসডিজি থেকে। আপনি যদি এসডিজির সঙ্গে রিলেট করেন, এসডিজিতে বলা আছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের আইনগত পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে, ইনক্লুডিং বার্থ রেজিস্ট্রেশন। মানে বার্থ রেজিস্ট্রেশনটা হচ্ছে মূল ভিত্তি। যার ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিকের আইনগত পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন
জন্মনিবন্ধনের কোনো মা-বাপ আছে বলে মনে হয় না: প্রধান উপদেষ্টা
সাবেক এ সচিব আরও বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে, আমাদের যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি), এটা অর্জিত হবে না। এটা একটা বৈশ্বিক ওয়াদা। সারাবিশ্ব এতে আবদ্ধ হয়েছে, আমরাও আবদ্ধ হয়েছি। এখন যদি এটা না করি, এসডিজি হবে না।’
তিনি বলেন, ‘এটা যদি না করি, আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি হবে না। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অনেকগুলো ইন্ডিকেটর আছে। মানে আমাদের বস্তুনিষ্ঠ পরিসংখ্যান হবে না। এটা না হলেই আমাদের অগ্রগতি হবে না।’
কারণ খতিয়ে দেখছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মুর্শিদা শারমিন বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে যে কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করছিলেন, তিনি বদলি হয়ে গেছেন। পরে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ায় আগের মতো কাজ না-ও হতে পারে। এ ধরনের কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে নিবন্ধনের হার কমেছে, সেটি আমরা এখনো পর্যালোচনা করছি, খতিয়ে দেখছি।’
আরও পড়ুন
শিশু জন্মের পরপরই জন্মনিবন্ধন ও পথশিশুদের জন্য ভাতা চালুর দাবি
নিবন্ধনের হার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মুর্শিদা শারমিন বলেন, ‘নিবন্ধনের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো। আমাদের জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ কাজটি শুধু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নয়। আমরা সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মনিটরিং করি। মূল কাজটি স্থানীয় সরকারের।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছে।’
আইন সংশোধনেরও উদ্যোগ
বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’, যা ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়েছে, এবং ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮’ এর আলোকে পরিচালিত হচ্ছে।
সিআরভিএস সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আলোচনা হয়, কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়াতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়াসহ আরও কিছু বিষয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এজন্য ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ আরও সংশোধন করা সময়োপযোগী হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ও বিধিমালা সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইন ও বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান।
আরএমএম/ইএ/ এমএফএ