সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঘুরছে নব্বই দশকের ছবি। পুরোনো অ্যালবামের ছবি যেমন শেয়ার করছেন অনেকে; তেমনই বর্তমানের ছবিকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে নব্বই দশকের আবহে তৈরি করে পোস্ট করছেন। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া এই ট্রেন্ডে সাধারণত নব্বই দশকের কয়েকটি ছবি নিয়ে ছোট স্লাইডশো বানানো হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে মার্কিন ব্যান্ড গু গু ডলসের ১৯৯৮ সালের জনপ্রিয় গান ‘আইরিস’। ‘হোয়াট ওয়ার ইউ লাইক ইন দ্য নাইনটিস’ ভাবনাকে ঘিরেই মূলত তৈরি হচ্ছে এসব পোস্ট।
কেউ পোস্ট করছেন নিজের সত্যিকারের পুরোনো ছবি। তবে বেশিরভাগেরই কাছে নব্বইয়ের দশকের ছবি নেই। তারা এআই দিয়ে বর্তমানের ছবিকে বদলে নিচ্ছেন। মুখ ও পরিচয় একই রেখে পোশাক, চুলের ধরন, ব্যাকগ্রাউন্ড, আলো এবং ছবির রং বদলে দেওয়া হচ্ছে। এই ট্রেন্ডে এরই মধ্যে যোগ দিয়েছেন বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। রেবা ম্যাকএন্টায়ার, ড্যারিয়াস রাকার, ড্রু ব্যারিমোর, স্কট উলফ, ব্রুক শিল্ডস, জো মানতেগনা ও কেভিন বেকনের মতো তারকারা নব্বইয়ের দশকের নিজেদের ছবি শেয়ার করেছেন। টেলিভিশন সিরিজের অভিনেত্রী মার্লা সোকোলফ এবং ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’খ্যাত ক্রিস্টিন ডেভিসও নিজেদের পুরোনো দিনের ছবি প্রকাশ করেছেন।
তারকাদের পোস্টের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে ট্রেন্ডটি। বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবি দেখা যাচ্ছে। কেউ পুরোনো ছবি খুঁজে বের করছেন, আবার কেউ এআই দিয়ে তৈরি করছেন নব্বইয়ের দশকের আদলে নতুন ছবি। এই ট্রেন্ডে শুধু ছবির রং বদলানো হচ্ছে না। পুরো ছবিটাকেই ওই সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কারো ছবিতে দেখা যাচ্ছে নব্বইয়ের দশকের ফটোস্টুডিও। পেছনে নীলচে ব্যাকগ্রাউন্ড, সামনে নরম আলো, পরনে পুরোনো দিনের পোশাক। কারো ছবি আবার তৈরি করা হচ্ছে সে সময়ের ঘরোয়া বসার ঘরের আদলে। সেখানে থাকতে পারে ফুলের নকশার ওয়ালপেপার, পুরোনো টেলিভিশন ও বেইজ রঙের সোফা।
আরও পড়ুন
ভিডিও ভাইরালে তোলপাড় / হাসপাতালে বাবার স্বাক্ষর নেওয়া কাগজটি আইনগত দলিল নয়
আরেকটি দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে গেমিং আর্কেড। চারপাশে গেমিং মেশিনের আলো, পেছনে অন্ধকার, ছবিতে ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ছাপ। আবার কেউ নিজের ছবিকে নিয়ে যাচ্ছেন ভিডিও ভাড়া দেওয়ার দোকানে, যেখানে পেছনে সারি সারি ভিএইচএস ক্যাসেট। এসব ছবিতে পুরোনো ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যও যোগ করা হচ্ছে। যেমন ফিল্মের দানা, সরাসরি ফ্ল্যাশ, সামান্য মোশন ব্লার, ফিকে রং কিংবা ফ্লুরোসেন্ট আলোর হালকা সবুজাভ আভা। পোশাকেও থাকছে সেই সময়ের ছাপ। ডেনিম বা বোম্বার জ্যাকেট, গ্রাফিক টি-শার্ট কিংবা নব্বইয়ের দশকের ক্যাজুয়াল পোশাক ব্যবহার করে ছবিগুলোকে আরও সময়োপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
এআই দিয়েই তৈরি করা যাচ্ছে এসব ছবি
এ ধরনের ছবি বানাতে এখন আলাদা ক্যামেরা বা ফটোশুটের প্রয়োজন হচ্ছে না। নিজের একটি ছবি নিয়ে এআই টুলে নির্দেশনা দিলেই সেটিকে নির্দিষ্ট সময়ের পোশাক ও পরিবেশে রূপ দেওয়া যাচ্ছে। ব্যবহারকারী চাইলে নির্দেশনায় বলে দিতে পারেন, ছবিতে তার মুখ, বয়স বা গায়ের রং যেন অপরিবর্তিত থাকে। এরপর শুধু পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, আলো কিংবা ক্যামেরার ধরন বদলে দেওয়া যায়।
কেউ চাইলে নিজের ছবিকে নব্বইয়ের দশকের কোনো ফটোস্টুডিওর ছবির মতো করতে পারেন। আবার কেউ চাইলে গেমিং আর্কেড, ডাইনার কিংবা ভিডিও রেন্টাল দোকানের পরিবেশ বেছে নিতে পারেন। এ কারণে ট্রেন্ডটি শুধু পুরোনো ছবি শেয়ার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। যারা নব্বইয়ের দশকে ছিলেন; তারা পুরোনো দিনের ছবির সঙ্গে নিজেদের স্মৃতি মিলিয়ে দেখছেন। আর যারা সেই সময়ের কোনো স্মৃতি সংরক্ষণ করেননি। তারাও এআইয়ের মাধ্যমে নিজেকে ‘নব্বইয়ের দশকের অ্যাস্থেটিক ছবি’ তৈরি করছেন।
আরও পড়ুন
মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য ‘মাথা গরম ছুটি’ রাখার অনুরোধ
ছবিগুলো সত্যিকারের পুরোনো না হলেও দেখতে অনেকটা সেই সময়ের ছবির মতোই। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডটির মূল আকর্ষণও এটাকে ঘিরেই। নব্বইয়ের দশক বাস্তবে ফিরে আসেনি। তবে সেই সময়ের পোশাক, ছবি তোলার ধরন আর পরিচিত পরিবেশ এখন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আবার দেখা যাচ্ছে। এবার পুরোনো ক্যামেরার রিলে নয়, এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে।
এসইউ