অস্থিরতা কাটছে না সিলেটের সুপারির বাজারের। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেজিতে এক লাফে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার পর আর কমেনি। স্থানীয়ভাবে সুপারি উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে মানভেদে পাইকারিতে প্রতি কেজি সুপারি ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, চাহিদার তুলনায় স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সুপারি সিলেটে আসায় বাজারে দাম বেড়েছে। তাছাড়াও আমদানি কর না কমালে দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তারা।
সিলেট নগরীর কাজিরবাজারের পাইকারি সুপারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দেশীয় সুপারি খুবই কম। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত সুপারিই এখন বাজারের বড় অংশজুড়ে রয়েছে।
বর্তমানে কাজিরবাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে থাইল্যান্ডের সুপারি মানভেদে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা, সিঙ্গাপুরের ছোট ও মাঝারি আকারের সুপারি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, সিঙ্গাপুরের বড় আকারের সুপারি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ইন্দোনেশিয়ার সুপারি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় সুপারির দাম ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু দিকে বাজারে এসব সুপারির দাম ছিল প্রায় অর্ধেক। সেসময় থাইল্যান্ডের সুপারি ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকা, সিঙ্গাপুরের সুপারি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশীয় সুপারি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। অর্থাৎ সময়ের ব্যবধানে কোনো কোনো ধরনের সুপারির দাম কেজিতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আরও পড়ুন
তেঁতুলিয়ার তীব্র ভাঙনে বিলীন সড়ক-জিওব্যাগ, ঝুঁকিতে অর্ধশত বসতঘর
নগরীর আম্বরখানা এলাকার সামি স্টোরের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, বাজারে শুকনা সুপারি দাম আগের মতোই। মৌসুমে কাচা সুপারি কিছু কম দামে মিললেও শুকনা সুপারি দাম অনেক বেশি। বর্তমানে পাইকারি বাজার থেকে ৬০০-৭০০ টাকার নিচে কোনো সুপারি কেনাই যাচ্ছে না। যার কারণে খুচরা বাজারে দাম বেশি।
তিনি বলেন, এক লাফে দাম দ্বিগুণ হওয়ার পর আর কমছেই না। কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কমেছে। এখন আবার দাম আগের মতোই হয়ে গেছে।
কাজিরবাজারের সুপারি ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, ‘মাঝেমধ্যে দাম বাড়তো। কিন্তু কিছুদিন পর আবার কমে যেতো। কিন্তু এবার দাম বাড়ার পর আর কমছেই না।
কাজিরবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আজিজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী তাহমিদ রহমান নাফি বলেন, আমদানি কর না কমালে দাম কমার সম্ভাবনা নেই। স্থানীয়ভাবে এবার সুপারির ফলনও কমেছে। তাই পুরো বাজার আমদানিকৃত সুপারি দিয়ে চালাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিলেটের কোনো ব্যবসায়ী সরাসরি সুপারি আমদানি করেন না। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে সুপারি আমদানি করেন। পরে তাদের কাছ থেকে সিলেটের ব্যবসায়ীরা সুপারি কেনেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সুপারি সিলেট আসায় পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগীর খরচ যুক্ত হয়ে দাম আরও বাড়ছে।
জেএএইচ/এনএইচআর/জেআইএম