বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রী কে জানেন? কিংবা, তিনি কত টাকা বেতন পান? এর উত্তর শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে! কারণ, আগে থেকেই যিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রী, তার বেতন একলাফে আরও ৬০ শতাংশ বাড়তে চলেছে।
মানুষটি আর কেউ নন! তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। তার বার্ষিক বেঞ্চমার্ক বেতন ৬০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে এ ঘোষণা দেন লরেন্স ওয়ং নিজেই।
আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুরে শীর্ষ ধনীর তালিকা থেকে বাদ আজিজ খান
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেঞ্চমার্ক বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার (১৭ লাখ মার্কিন ডলার) থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার হবে। অর্থাৎ বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার, মার্কিন মুদ্রায় যা ১১ লাখ ডলারের কাছাকাছি।
এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের একজনের বেতন আরও অনেকটাই বেড়ে যাবে।
মন্ত্রীদের বেতনও বাড়ছে
সিঙ্গাপুরের উপপ্রধানমন্ত্রীর বেঞ্চমার্ক বেতনও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে বছরে ১৮ লাখ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার বেতন পান তিনি। এর পরিমাণ বেড়ে ৩০ লাখ ৬০ হাজার ডলার হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা)।
আরও পড়ুন
মশা দিয়েই মশা নিধন / বাংলাদেশে ডেঙ্গু মোকাবিলার পথ দেখাতে পারে সিঙ্গাপুরের আজব কৌশল
মন্ত্রিসভার সদস্যদের বার্ষিক বেঞ্চমার্ক বেতন হবে ১৮ লাখ থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলারের মধ্যে।
পদমর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রীদের বেতনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
তবে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও বর্তমান পদধারীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরো নতুন বেঞ্চমার্ক পাবেন না। ১৫ অক্টোবর থেকে তারা এককালীন সর্বোচ্চ নয় শতাংশ সমন্বয় পাবেন। ব্যক্তির পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই সমন্বয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
বাড়তি অর্থ দান করবেন প্রধানমন্ত্রী
নিজের বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থই দান করার ঘোষণা দিয়েছেন লরেন্স ওং। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বেতন বৃদ্ধির ফলে যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।
আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুরে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে নিষিদ্ধ হলো ব্রিটিশ ব্যান্ড
সিঙ্গাপুরে রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সরকারের যুক্তি, উচ্চ বেতন মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে পারে। এর মাধ্যমে ভালো প্রশাসন নিশ্চিত করাও সহজ হয় বলে মনে করে সরকার।
সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় অনেক বেশি
লরেন্স ওং স্বীকার করেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি সংবেদনশীল বিষয়। কারণ মন্ত্রীদের আয় সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি বলেন, এ কারণে সিঙ্গাপুরের নাগরিকেরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে শক্তিশালী মতামত রয়েছে।
তার মতে, মূল প্রশ্ন হলো আগামী কয়েক দশকে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশটি ধরে রাখতে পারবে কি না। ওংয়ের কথায়, ভালো সরকার নিশ্চিত করতে ভালো নেতৃত্ব প্রয়োজন।
১৫ বছর পর বেতন পুনর্নির্ধারণ
সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীদের বেতন সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল প্রায় ১৫ বছর আগে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করেছে একটি স্বাধীন কমিটি।
আরও পড়ুন
যেভাবে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হলো সিঙ্গাপুর, আমরা যা শিখতে পারি
ওং বলেছেন, বেতন বৃদ্ধির পর ভবিষ্যতে যে কোনো পরিবর্তন পদধারীর কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা পিপলস অ্যাকশন পার্টি সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ। দেশটির ২১ সদস্যের মন্ত্রিসভাতেও দলটির আধিপত্য রয়েছে।
সিঙ্গাপুর একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে ওপরের দিকে থাকে। উচ্চ বেতন দিয়ে দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব আকৃষ্ট করার যুক্তি তাই দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় রাজনৈতিক নেতাদের বিপুল আয়ের কারণে বেতন কাঠামো নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এএফপিকেএএ/