ঘুস নেওয়ার অপরাধে চীনে শানসি প্রদেশের সাবেক গভর্নর জিন শিয়াংজুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এই মৃত্যুদণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। দুই বছরের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, জিন শিয়াংজুনের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ইউয়ানের বেশি ঘুস নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিন ‘পৃথক অঞ্চল’, ক্ষুব্ধ ভারত
যাবজ্জীবন রাজনৈতিক অধিকার বাতিল
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হেনান প্রদেশের শিনইয়াং ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট জিন শিয়াংজুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তার রাজনৈতিক অধিকার আজীবনের জন্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তার ব্যক্তিগত সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘুস হিসেবে নেওয়া অর্থ থেকে পাওয়া আয় এবং ওই অর্থের সুদও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত জুনে এই মামলার প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আদালত বলেছেন, জিনের বিরুদ্ধে প্রমাণিত ঘুষের পরিমাণ ছিল ‘অসাধারণভাবে বিপুল’। তার কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে তিনি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ করেছেন বলে মনে করেন আদালত।
আরও পড়ুন
ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো লেখকের ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা!
কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত
তবে জিন শিয়াংজুনের মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত তার কিছু প্রশমনকারী বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন। গ্রেফতারের পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। এ ছাড়া আগে জানা ছিল না—এমন আরও কয়েকটি ঘুসের ঘটনা তদন্তকারীদের কাছে প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেন।
আদালত আরও জানিয়েছেন, তার অবৈধভাবে অর্জিত কিছু অর্থ এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের আইনে মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে শাস্তি পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
নেপালে আবারও ধসে পড়তে পারে হিমবাহ, চীনের সতর্কবার্তা
তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জিন শিয়াংজুন শানসি প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টি কমিটির সাবেক উপপ্রধানও ছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি পদ থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হয়।
তদন্তে বলা হয়েছে, নিজের সরকারি পদ ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দেন। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও প্রকল্পের চুক্তি পাওয়ার মতো বিষয় ছিল। এর বিনিময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও উপহার গ্রহণ করেন।
আরেক সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
এদিকে একই দিনে চীনের সাবেক জরুরি ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ওয়াং শিয়াংশির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
চীনের শীর্ষ দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াংকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে সরকারি পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তিনি দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদের সুবিধা পাইয়ে দিতে তিনি অন্যায়ভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: শিনহুয়া, আনাদোলু এজেন্সিকেএএ/