জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় ভোরে অভিযানে ৩২৫ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)।
বুধবার সকালে একটি অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় চালানো এ অভিযানে মোট ৭৪০ জনকে তল্লাশি করা হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ৩২৫ জনের মধ্যে ২৭০ জন পুরুষ ও ৫৫ জন নারী। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে। আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের নাগরিক। তবে এ অভিযানে কতজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন তা জানা যায়নি।
জেআইএমের সদর দপ্তরের ১২৭ কর্মকর্তা এ অভিযানে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিল মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ (জেটিকেএসএম) ও জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর কর্মকর্তারা। জনসাধারণের অভিযোগ ও পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযানে আটক বিদেশিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং পাসের শর্ত ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
পেনাংয়ে প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ চায় বাংলাদেশ
আটক সবাইকে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
জেআইএম জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি বৈধ পাসের অপব্যবহার ও অভিবাসন-সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানো হবে।
শুধু অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিরাই নয়, তাদের নিয়োগ, আশ্রয় বা সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেআইএম। বিশেষ করে নিয়োগকর্তা ও স্থাপনার মালিকদের প্রত্যেক বিদেশি কর্মী বা বাসিন্দার বৈধ নথিপত্র নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানোর কথা জানিয়ে জেআইএম বলেছে, অবৈধ অভিবাসী বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের তথ্য থাকলে তা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে জানানোর জন্য সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এমআরএম