বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের নিশ্চিতকৃত ১৪ শিশুর অন্যতম একজনের মা ও তার সাবেক প্রেমিকা অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার বলেছেন, মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরম বিভাজন সৃষ্টি করছেন। সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘মাস্ক’-এ এসব কথা বলেছেন সেন্ট ক্লেয়ার। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সময় তিনি জানান, এক টেক্সট বার্তায় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে একটি সন্তান চাই, কারণ- গৃহযুদ্ধ লাগার আগেই আমার সন্তানদের একটি বাহিনী দরকার।’
২০২৪ সালে এই দম্পতির ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, তবে পরবর্তী সময়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ক্লেয়ার দাবি করেন, একটি গোপনীয়তার চুক্তিতে (এনডিএ) স্বাক্ষর করার বিনিময়ে ইলন মাস্ক তাকে এককালীন ৪ কোটি ডলার ও প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ক্লেয়ার ওই চুক্তি স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করার পর প্রস্তাবটি বাতিল করে নেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ক্লেয়ার বলেন, ইলন মাস্ক গৃহযুদ্ধ নিয়ে কেবল আতঙ্কিত ছিলেন নাকি তিনি নিজেই সক্রিয়ভাবে তা উসকে দিচ্ছেন, তা নিশ্চিত না হলেও এক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাস্ক যা করছেন তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি এমন আগুন উসকে দিচ্ছেন, বাস্তব দুনিয়ায় যার কোনো অস্তিত্বই নেই।
তিনি দাবি করেন, মাস্কের এই প্ল্যাটফর্মের যাবতীয় ইনপুট বাস্তব জগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা না হয় কিংবা সবাই মিলে এই উসকানি থামানোর উদ্যোগ না নেয়, তবে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভাজন এক বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পর থেকে ইলন মাস্ক তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্য নির্বাচনে অতি-ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এফডি)-এর শক্তিশালী অবস্থান উদযাপন করে দলটির সহনেত্রী অ্যালিস উইডেলের সমর্থনে এক পোস্টে মাস্ক মন্তব্য করেন, ‘সাবাস!’
দীর্ঘ তিন বছর ধরে নির্মিত চার ঘণ্টার এই বিশদ প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা গিবনি বলেন, সভ্যতা ধ্বংসের বিষয়ে মাস্কের এই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক আবেশ মূলত তার দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটানো শৈশবকাল থেকে উৎসারিত হতে পারে। গিবনি উল্লেখ করেন, মাস্ক অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক শৈশব পার করেছেন এবং তিনি অবচেতনভাবেই যেন সেই মানসিক আঘাত এখন পুরো বিশ্বের ওপর চালিয়ে দিচ্ছেন।
সফটওয়্যার স্টার্টআপের সাধারণ তরুণ থেকে শুরু করে রকেট ও বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির সফল প্রকৌশলী উদ্যোক্তা এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের কট্টোর সমর্থকে পরিণত হওয়া ইলন মাস্কের উত্থানের সার্বিক চিত্র এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গিবনি মন্তব্য করেন, মাস্কের গল্প মূলত প্রযুক্তি খাতের নতুন কোনো বিষয় নয়, বরং এটি পুরোনো মদ নতুন বোতলে ভরার গল্প। তার ধনসম্পদ ও ক্ষমতার মূল উৎস এসেছে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে শেয়ারবাজারের কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি থেকে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসএএইচ