চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতৃবৃন্দরা সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ১১ ও ১২তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব দলীয় কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার একটি কৌশল। একই সঙ্গে পিএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পরিবর্তনের বিষয়েও তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অভিযোগ তোলেন।
তিনি আরও বলেন, দলীয়করণ বন্ধ করুন। মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ দিন। মেধার অবমূল্যায়ন করে আজ্ঞাবহ প্রশাসন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নামবে।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ও ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর ৫০-এ উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাইভার বর্ধিত নম্বরকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, রেফারেন্স ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
ভয়েস অব স্টুডেন্টের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন কর্পোরেশন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে দেশে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে। তিনি সরকারের প্রতি এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, ভয়েস অব স্টুডেন্টের সভাপতি আশিকুর রহমানসহ চাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এমএমআরআর/কেজে/জেআইএম