পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। বুধবার (৯ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্যসূচক কমেছে। এতে প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে সূচক। সূচকের পতনের সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচক কমেছে। সূচক কমলেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। অবশ্য লেনদেন চলাকালে বেশ কয়েকবার সূচক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এমনকি লেনদেনের তিন ঘণ্টার মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
এতে বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে—এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু শেষ এক ঘণ্টার লেনদেনে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। ফলে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। বিশেষ করে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় থাকার পরও সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সব খাত মিলে ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৭২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
সার্বভৌম বন্ড ছাড়তে জেপি মরগানের পরামর্শ নেবে সরকার
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬২টির দাম কমেছে এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৫টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে সূচকটি চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। ১১ জুন সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৫২০ পয়েন্টে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সাইথইস্ট ব্যাংক এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৩টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫৯ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এমএএস/এমকেআর