
রাজধানীর কদমতলীর শনির আখড়া এলাকায় দোকানে ঢুকে আসলাম খান (৩৮) নামের এক দোকানমালিককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি অস্ত্র, নয়টি গুলি এবং পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, জমির দখল বুঝে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের জেরে আসলাম খানকে গুলি করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (৪৪), ইকবাল কালু (৩২), আকলিমা আক্তার রুনিয়া (৩০) ও সোনিয়া ইয়াসমিন (৪৩)।
আজ বুধবার বেলা পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া আটটার দিকে কদমতলী থানার জিয়া সরণি রোডের লাখি ক্রোকারিজ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় দোকানে বসে বেচাকেনা করছিলেন আসলাম খান। হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তাঁর মুখের ডান পাশ ও বাঁ হাতের কনুইতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, আসলাম খান ও তাঁর সহযোগীরা একটি জমি কিনেছিলেন। জমিটি দীর্ঘদিন ধরে জলিল মন্ডল নামের এক ব্যক্তির দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আসলাম খান আদালতের রায় পান। পরে গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মন্ডলকে উচ্ছেদ করা হয় এবং আসলাম খান জমিটির দখল বুঝে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বশে আসামিরা তাঁর ওপর গুলি ছোড়েন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গুলির ঘটনার পর স্থানীয় জনতার সহায়তায় মো. মঞ্জুরুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, নয়টি তাজা গুলি এবং পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। মঞ্জুরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে কদমতলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তের বরাত দিয়ে মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, ঘটনার আগে আসামিরা নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের পাশে অবস্থান নেন। দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে শুটার মঞ্জুরুল ইসলাম দোকানের ভেতরে ঢুকে আসলাম খানকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এ ঘটনায় কদমতলী থানায় দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ডেমরা থানায় চুরির দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ইকবাল কালুর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর ইমরান হত্যা মামলায় পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার
যাত্রাবাড়ীর ইমরান হত্যা মামলার মূল হোতাসহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি তাজা গুলি, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, ছয়টি ককটেল, দুটি চাপাতি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল ও ৭০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), কামরুল হাসান (২৫), সাইফুল হোসেন (২০), জামিল মিয়া দোলন (৩৫) ও মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু (৩৫)।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর বাদল সর্দার গলির শরিফের গ্যারেজে বসে থাকা ইমরান ও সাদ্দামকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এক দল দুর্বৃত্ত। তিনটি মোটরসাইকেলে হেলমেট ও মাস্ক পরে এসে গুলি চালায় তারা। ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন এবং সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মূল হোতা রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের একাধিক মামলা এবং কামরুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির একাধিক মামলা রয়েছে। মিঠুর বিরুদ্ধেও মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির একাধিক মামলা রয়েছে।