প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনায় জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এ ধরনের ঘটনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল নিয়ে জনমনে কী বার্তা যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বাদানুবাদ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন এবং সেদিন আর আদালতে ফেরেননি।
আরও পড়ুন
মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি
তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একজন আইনজীবী তথ্য গোপন করে রিট করায় তাকে জরিমানা করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করে।
তিনি বলেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হলো বিচার বিভাগ। সেখানে এ ধরনের ঘটনা জনগণের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বার সভাপতির মন্তব্যের পর বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগ, যা বলছেন আইনজীবীরা
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এ সংসদ সদস্য বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার মতো দুঃখজনক ঘটনাও দেশ দেখেছে। অতীতের সেই অভিজ্ঞতার কারণে এ ধরনের ঘটনা নতুন করে কোনো আশঙ্কার বার্তা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ— বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ—কারোই এককভাবে সার্বভৌমত্ব নেই। জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। জনগণের দেওয়া ক্ষমতা যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। একটি অঙ্গের ওপর আরেকটি অঙ্গের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা উচিত নয়।
এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন, যেন জনগণ এ বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারে।
এমওএস/কেএসআর