সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কার্যক্রম চালু রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংককে ৩০ কোটি দিরহাম মূলধন সহায়তা দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জনতা ব্যাংককে ইউএইতে ৮ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার ১০৪ মার্কিন ডলার পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত পরিশোধিত মূলধনের ঘাটতি পূরণ করা হবে।
ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশটিতে জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন থাকার কথা ৪০ কোটি দিরহাম। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে ১০ কোটি দিরহাম। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩০ কোটি দিরহাম।
মূলধনের এ ঘাটতির কারণে ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত করার পাশাপাশি ব্যাংকটির শাখাগুলো গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি নতুন হিসাব খোলা ও নতুন সেবা দেওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনেও সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন
জনতা ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদনের দাবি কর্মকর্তাদের
সরকারের মূলধন সহায়তার ফলে ইউএইর আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল আইনে থাকা জনতা ব্যাংকের চারটি শাখার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। এসব শাখার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সেবা নিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ইউএইতে ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রায় ৩০ কোটি দিরহামের যে মূলধন ঘাটতি ছিল, অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে তা পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর অর্থ পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন
জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: সালমানসহ ২২ জনের নামে দুদকের মামলা
তবে দেশের অভ্যন্তরে জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণেও সরকারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকারের একটি ফান্ড কমিটমেন্ট চাওয়া হয়েছে।
এই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জনতা ব্যাংক ১৯৭৬ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিরা ব্যাংকটির শাখাগুলোর মাধ্যমে সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি হিসাব খোলা, রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ পান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইউএই বাণিজ্যের জন্য এলসি, গ্যারান্টি ও ঋণ সুবিধাও দিয়ে থাকে ব্যাংকটি।
ইএআর/এমএমকে