ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় আরও তিন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্নার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—রাকিব মিয়া (২৮), সাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)।
ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ মামলায় বুধবার তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। আরও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ড শুনানি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন
আমিনবাজারে পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে আলতাব হোসেনকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পুরো ঘটনা উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার জন্য আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে তা বাতিলের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির আল আহসান জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে আলতাব হোসেনও ওই বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে তিনি আত্মরক্ষার জন্য তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ফ্যাশনে আশ্রয় নেন। পরে রাত ৮টার দিকে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
সাভারে পুলিশ হত্যা: আরও ৮ আসামি রিমান্ডে
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাব হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামও হামলার শিকার হন। পরে গুরুতর আহত আলতাব হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এমডিএএ/এমএমকে