খেলা শেষ হওয়ার কথা বিকেলেই, সেটা চলতে থাকলো সন্ধ্যাত পর্যন্তও! দুই দফা বৃষ্টিতে জ্বালাতে হলো মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাডলাইটও। তবে তাতেও কাজ হয়নি। সাড়ে ৬টায় বৃষ্টির গতি আচমকা বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
তবে গ্রুপ পর্বের ভালো পারফর্ম্যান্সে কপাল খুলে যায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ছাপিয়ে গেম ডেভোলপলমেন্ট (জিডি) টুর্নামেন্টের শিরোপা যায় যুব দলের কাছেই।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিডি ট্রফির ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে ২৪৫ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। দুই দফা বৃষ্টি বাধার পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) মেথডে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান।
১৭.২ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৯ রান তোলার পর দ্বিতীয় দফা বৃষ্টিতে ভেসে যায় ম্যাচ। ফাইনালে নজর কেড়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার তাফিউল আলম তামিম। ৮.৪ ওভারে ৩৬ রান খরচায় ছয় উইকেট নিয়েছেন। ৫২টি বল করে ৩৬টিই ডট দিয়েছেন এই পেসার।
গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল তারা। আর দুই জয় ও একহারে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। গ্রুপ পর্বে এগিয়ে থাকায় ১৯ দলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
রান তাড়ায় শুরুতে ব্যাটিংয়েই নামতে পারেনি অনূর্ধ্ব-১৯। এরপর যখন ব্যাটিংয়ে নামে তারা, ততক্ষণে ৬ ওভার কাটা পড়েছে, দলটির লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪ ওভারে ২২৩ রান। আব্দুল্লাহ মুহি দলকে ভালো শুরু এনে দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ফেরেন ২০ রান করা এই ব্যাটার। পরের পাঁচ বল হওয়ার পর ফের বৃষ্টি বাধায় বন্ধ হয় খেলা। তখন দলটির রান ছিল ১ উইকেটে ২৭।
এরপর আবার খেলা শুরু হলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান। এই দফায় অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন ৬ রান করা জারিফ সিয়াম।
২৭ রানে দুই উইকেট হারানোর পর কাওসার আহমেদ ও আহসান আল মুমিন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ২৭ রান। কাওসার ১৪ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ফারহান সাদিক উইকেটে এসেই আক্রমণ শুরু করেন। ১৫ বলে দুইটি করে চার ও ছয়ে ২৯ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর ১৮তম ওভারে ফেরেন মুমিন ফেরেন ২৪ রান করে। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ায় খেলা আর এগোয়নি।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিককে হারায় অনূর্ধ-২৩ দল। দশ ওভারে দলটি তোলে কেবল ২৩ রান। ১৩তম ওভারে জোড়া উইকেট হারায় তারা। তাফিউলের করা ওভারে এক বলের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আজিজুল (২৯ বলে ১৫) ও রিজান হোসেন (২ বলে ০)।
৩০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর কালাম ও কিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ধাক্কা সামলান। ৫৪ বলে ২৪ রান কালামের বিদায়ে ভাঙে তাদের ৫২ রানের জুটি। পরে ধারাবাহিক পারফর্ম করা আব্দুল্লাহ ৫৪ বলে ৪৭ করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।
১০২ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে আহরার আমিন ও দেবাশিস সরকারের ৮৬ রানের জুটি লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। ৪৬ রান করেন আহরার আর ৪৩ রান আসে দেবাশীষের ব্যাট থেকে। এরপর শেষ মাহফুজুর রহমান রাব্বি ২৬ বলে ৩১ রানের ইনিংসে আড়াইশ ছোয়া পুঁজি পায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৪০ রানে তিন উইকেট নেন শেখ আতিকুর রহমান আকাশ।
এসকেডি/আইএইচএস/